ছিন্নমস্তার রূপে নৃত্য, বিতর্কের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন দেবরাজ

ছিন্নমস্তার রূপে নৃত্য, বিতর্কের পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন দেবরাজ

 

ধর্মীয় চরিত্রের উপস্থাপনা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল বিতর্ক

শাশ্বতী মোদক, রঙ নিউজ

কলকাতা: দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ছিন্নমস্তার রূপে এক নৃত্য পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে বিশেষ সাজসজ্জায় এক নৃত্যশিল্পীকে ছিন্নমস্তার রূপে মঞ্চে পারফর্ম করতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, ওই শিল্পী কলকাতার পরিচিত নৃত্যশিল্পী দেবরাজ চৌধুরী।

 

নৃত্যজগতে পরিচিত মুখ দেবরাজের সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর আগে জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়াজ গট ট্যালেন্ট’-এর মঞ্চেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে ছিন্নমস্তার রূপে তাঁর সাম্প্রতিক পরিবেশনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় বিতর্ক।

 

ভিডিওটির একটি বিশেষ অঙ্গভঙ্গি নিয়েই মূলত আপত্তি জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। অভিযোগ, পারফরম্যান্সের সময় চুল সরিয়ে শরীরের পিছনের অংশকে বিশেষভাবে প্রদর্শনের মতো একটি মুভমেন্ট করা হয়। ধর্মীয় দেবদেবীর চরিত্র মঞ্চে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এই ধরনের অঙ্গভঙ্গি কতটা উপযুক্ত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। দ্রুত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি।

 

বিতর্কের পর দেবরাজের ব্যাখ্যা

 

সমালোচনা তীব্র হওয়ার পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন দেবরাজ চৌধুরী। ফেসবুকে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ক্ষমা চান।

 

আবেগঘন বক্তব্যে দেবরাজ জানান, কাউকে আঘাত করা কিংবা শুধুমাত্র ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই পরিবেশনা করা হয়নি। পারফরম্যান্সের সময় উত্তেজনা ও মুহূর্তের আবেগের বশেই ওই নির্দিষ্ট মুভমেন্টটি করে ফেলেছিলেন বলে তাঁর দাবি।

 

দেবরাজের বক্তব্য অনুযায়ী, ছিন্নমস্তার চরিত্রের জন্য তাঁর সাজসজ্জা এবং পরিবেশনার বেশিরভাগ অংশই পরিচালক ও অনুষ্ঠানের আয়োজকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তৈরি হয়েছিল। তবে চুল সরিয়ে শরীরের পিছনের অংশকে হাইলাইট করার অঙ্গভঙ্গিটি তাঁর নিজের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং সেটি মূল স্ক্রিপ্টের অংশ ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছেন।

 

‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না’

 

নিজের বক্তব্যের শেষে দেবরাজ স্পষ্ট করে জানান, তাঁর পরিবেশনা বা কোনও অঙ্গভঙ্গির কারণে যদি কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তাহলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

 

ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেখা দিয়েছে। একদিকে শিল্পীর স্বাধীন সৃজনশীলতার প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে ধর্মীয় চরিত্রের মঞ্চ উপস্থাপনায় সংবেদনশীলতা ও মর্যাদা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

বিতর্কের মাঝেই দেবরাজের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা আপাতত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *