নন্দীগ্রামে দুঃসাহসিক ডাকাতি মামলার রহস্যভেদ

নন্দীগ্রামে দুঃসাহসিক ডাকাতি মামলার রহস্যভেদ, মূলচক্রের হোতাসহ একাধিক গ্রেফতার; উদ্ধার লুঠ হওয়া অধিকাংশ গয়না ও অস্ত্র

 

তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও আন্তঃরাজ্য অভিযানে বড় সাফল্য পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের

 

দিব্যেন্দু দাস | পূর্ব মেদিনীপুর | ৬ আগস্ট, ২০২৬

নন্দীগ্রামে সংঘটিত একটি দুঃসাহসিক ডাকাতি মামলার তদন্তে বড় সাফল্য পেল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মামলার মূলচক্রের হোতাসহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে লুঠ হওয়া প্রায় সমস্ত সোনার গয়না, মূল্যবান বাসনপত্র এবং অপরাধে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্ত এখনও চলছে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও নগদ অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ৭ জুলাই নন্দীগ্রাম থানায় শ্রী সনৎ কুমার দাস একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, ৬ ও ৭ জুলাইয়ের মধ্যরাতে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। আলমারি ভেঙে তারা সোনার গয়না, নগদ ₹১,২৮,০০০, বিভিন্ন মূল্যবান গৃহস্থালি সামগ্রী ও বাসনপত্র লুঠ করে নিয়ে যায়। অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

অভিযোগ পাওয়ার পরই নন্দীগ্রাম থানার তদন্তকারী দল দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরে পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও বিশেষ অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতা এবং তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার শ্রী অংশুমান সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলে। তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন অভিযুক্তকে টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড (TIP)-এ উপস্থাপন করা হলে অভিযোগকারী তাঁদের সফলভাবে শনাক্ত করেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই শনাক্তকরণ মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

 

পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তদের দেখানো মতে লুঠ হওয়া অধিকাংশ সোনার গয়না, বাসনপত্র এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ইতিমধ্যেই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে একাধিক জায়গায় অভিযান চলছে। পাশাপাশি লুঠ হওয়া নগদ অর্থ উদ্ধারের জন্যও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

 

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর। নন্দীগ্রামের এই ডাকাতি মামলার দ্রুত রহস্যভেদ ও উদ্ধার অভিযান জেলা পুলিশের তদন্ত দক্ষতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *