পটাশপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা

পটাশপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা

দিব্যেন্দু দাস, রঙ নিউজ
পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুর | ১৭ আগস্ট ২০২৬

 

পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বন্যা পরিস্থিতি। বাগুই নদীর জল উপচে পটাশপুর-১ ও পটাশপুর-২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একাধিক গ্রামে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, চাষের জমি, স্কুল এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা জলের তলায় চলে গিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে গোকুলপুর, নৈপুর, গোপালপুর, ব্রজলালপুর, অমর্ষি-১ ও ২ এবং শ্রীরামপুর। বিশ্বনাথপুর, তাপিন্দা, টাকাবেড়িয়া, কানাইডাঙর, কনকপুর, খড়িগেড়িয়া, শুকেশ্বর, পুষা, অমরপুর, নৈপুর, মির্জাপুর-সহ একাধিক গ্রামেও জল ঢুকে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

নদীর জলে বিপর্যস্ত জনজীবন

বাগুই নদীর জল গোকুলপুর অঞ্চলের একাধিক মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কেলেঘাই নদীতে গিয়ে পড়ছে। কিন্তু কেলেঘাই নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাগুইয়ের জল দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে পটাশপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়ছে। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

 

রাস্তা যোগাযোগ কার্যত বিপর্যস্ত

পটাশপুর-বালিচক রাজ্য সড়কের নৈপুর-লক্ষ্মীবাজার অংশে জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ছোট গাড়ির চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গোপালপুর অঞ্চলের টেপরপাড়া-গোপালপুর সড়কেও জলের তীব্র স্রোত বইছে। একাধিক গ্রামীণ রাস্তা, সাঁকো ও সেতু জলমগ্ন হওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।

 

চাষের জমি জলের তলায়

বন্যার জলে বিস্তীর্ণ আমন ধানের জমি ও বীজতলা ডুবে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। বহু পুকুর, ফিসারি এবং কৃষিজমি জলমগ্ন হওয়ায় কৃষি ও মৎস্যচাষে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাঁধ নিয়ে বাড়ছে আতঙ্ক

কেলেঘাই নদীর তীব্র জলচাপের কারণে একাধিক দুর্বল বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমগাছিয়া, তালাডিহা-সহ কয়েকটি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে খবর। বাঁধ ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

 

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ

জল বাড়তে থাকায় বহু পরিবার গবাদি পশু ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তুলনামূলক উঁচু ও নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই পটাশপুরের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন পটাশপুর প্রশাসন ও বিধায়ক তপন মাইতি।

নতুন করে বৃষ্টির আশঙ্কা

আবহাওয়া পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। ফলে নদী ও জমা জলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে পটাশপুরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বন্যার জল দ্রুত নিষ্কাশন, দুর্বল নদীবাঁধ রক্ষা, দুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। পরিস্থিতির দিকে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক নজর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *