পেন্টাগনের ৪১টি নতুন ‘ইউএফও’ ফাইল প্রকাশ: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে রহস্যময় গোলক ঘিরে তুঙ্গে ভিনগ্রহী-জল্পনা!

পেন্টাগনের ৪১টি নতুন ‘ইউএফও’ ফাইল প্রকাশ: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে রহস্যময় গোলক ঘিরে তুঙ্গে ভিনগ্রহী-জল্পনা!

 

প্রতীক চ্যাটার্জী, রঙ নিউজ

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগন ইউএফও (UFO) বা আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট সংক্রান্ত ৪১টি নতুন গোপন ফাইল প্রকাশ করেছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব নিয়ে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে সরকারিভাবে এই রহস্যময় বস্তুগুলোকে ইউএপি (UAP) বা ‘আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা’ বলা হয়ে থাকে। আগস্ট মাসের শুরুতে এই ফাইলগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়, যার মধ্যে এক ডজনেরও বেশি ভিডিও, ছবি এবং কিছু পিডিএফ নথি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গোপন রাখা এই তথ্যগুলো সামনে আসতেই বিজ্ঞানমহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

 

প্রকাশিত ফাইলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার আকাশ থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও ফুটেজ। ওই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একটি ধাতব চেহারার রহস্যময় গোলাকার বস্তু বা ‘অর্ব’ (Orb) বাড়িঘর এবং রাস্তাঘাটের ওপর দিয়ে এদিক-ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে। মার্কিন সেনার ড্রোনের ক্যামেরায় এই অভাবনীয় দৃশ্য ধরা পড়ে। পেন্টাগনের আধিকারিকরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বস্তুটির ওড়ার ধরন ও গতিবিধি ছিল অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’। বিস্তর গবেষণার পরেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস (AARO) বস্তুটিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, পেন্টাগনের প্রকাশ করা এই ৪১টি নথিতে গত সাত দশকের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। ১৯৫৩ সাল থেকে শুরু করে একেবারে সাম্প্রতিক ২০২৩ সাল পর্যন্ত ঘটা বেশ কিছু অজ্ঞাত উড়ন্ত যানের গতিবিধি নথিবদ্ধ করা হয়েছে এতে। প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি চাকতির মতো বস্তুর ভিডিও রয়েছে, যা হঠাৎ গায়েব হয়ে গিয়ে পরক্ষণেই আবার ফিরে আসে। এছাড়াও রয়েছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বস্টন থেকে ডাবলিন যাওয়ার পথে এক বাণিজ্যিক পাইলটের অভিজ্ঞতা। তিনি মাঝরাতে আকাশে উজ্জ্বল রহস্যময় আলোর বিন্দুকে দিক পরিবর্তন করতে দেখেছিলেন। পাশাপাশি, ২০০২ সালে আফগানিস্তানের আকাশে সামরিক পাইলটদের দেখা নিঃশব্দে উড়ে চলা এক বিশাল ত্রিভুজাকার যানের বিবরণও উঠে এসেছে এই নতুন ফাইলগুলোতে।

 

বিগত কয়েক বছর ধরে আমেরিকার বিরুদ্ধে ইউএফও সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করার বিস্তর অভিযোগ উঠছিল। জানা যায়, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংক্রান্ত গোপন ফাইলগুলো জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে পেন্টাগন ধাপে ধাপে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করতে শুরু করেছে। দ্য গার্ডিয়ান, হিন্দুস্তান টাইমস-এর মতো আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমগুলোতে এই খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচারিত হচ্ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও ড্রোন থেকে নেওয়া এই ভিডিওগুলো ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

 

এতগুলো নিখুঁত প্রমাণ এবং ভিডিও সামনে আসার পরও পেন্টাগন একটি বিষয়ে তাদের অবস্থান ধোঁয়াশাপূর্ণ রেখেছে। তারা জানিয়েছে যে, এই উড়ন্ত বস্তুগুলোর উৎস শনাক্ত করা না গেলেও, এগুলো যে নিশ্চিতভাবেই এলিয়েন বা ভিনগ্রহীদের মহাকাশযান—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। একাংশ মনে করছেন, এগুলো হয়তো কোনো অজানা প্রাকৃতিক ঘটনা, বায়ুমণ্ডলীয় দৃষ্টিভ্রম কিংবা অন্য কোনো শক্তিশালী দেশের অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি হতে পারে। তবে দিনের শেষে প্রকৃত সত্যটি কী এবং রাতের আকাশে ওই রহস্যময় যানগুলো কোথা থেকে আসছে, তা আজও এক অমীমাংসিত রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *