প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি পারস্পরিক স্বার্থ: জয়শঙ্কর
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চিন—তিন প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। ‘ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরাম’-এ তিনি বলেন, প্রতিবেশীরা সব সময় ভারতের স্বার্থ অনুযায়ী চলবে, এমন প্রত্যাশা নয়াদিল্লির নেই। বরং দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ‘সাধারণ ভিত্তি’ খুঁজে পাওয়াই কার্যকর সম্পর্কের চাবিকাঠি। তাঁর কথায়, “তাদের জন্যও কাজ করতে হবে, আমাদের জন্যও।”
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্নের বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান জয়শঙ্কর। তবে স্পষ্ট করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হতে হবে। ভারত তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তাঁকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হলেও নতুন তারিখ নিয়ে দুই দেশ যোগাযোগ রাখছে। চলতি মাসের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে সফর হতে পারে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানজনিত অস্বস্তির মধ্যে এই সফরকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের জনমতকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারে পাকিস্তানের ভূমিকা ‘অনন্য’—অন্য কোনও দেশ এত পদ্ধতিগত ও ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহার করে না। পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সম্পর্কের পাশাপাশি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ও ভারতের কৌশলগত হিসাবের অংশ হবে। তাঁর বক্তব্য, ভারতের নিরাপত্তা মূল্যায়নে “সবকিছুরই গুরুত্ব রয়েছে, সবকিছুরই একটি ওজন রয়েছে।”
চিন প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রীর বার্তা, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্বশর্ত। ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ পর্যন্ত সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সম্পর্ক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশই বড় অর্থনীতি, গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ। চিনে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ভিসা-সমস্যার বিষয়টিও বেইজিংয়ের কাছে তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জয়শঙ্করের বার্তা, চিন-সহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেই ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাঁর কথায়, “বিশ্ব প্রতিযোগিতামূলক; আমাদের নিজেদের শক্তি বাড়াতে হবে।” সীমান্তের মতোই চিনের সঙ্গেও ভারতকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ‘নিজের অবস্থানে দৃঢ়’ থাকতে হবে।
