প্রশ্নপত্রে সংশয়, বিশ্বাসের অবক্ষয়
অর্ঘ্য খামারু , রঙ নিউজ
একটি প্রশ্নপত্র শুধু কয়েকটি কাগজের পৃষ্ঠা নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরিশ্রম, অসংখ্য পরিবারের প্রত্যাশা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তাই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-কে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে তার অভিঘাত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা আঘাত করে সমগ্র পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতায়।
২০২৬ সালের NEET-UG পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিয়ে ওঠা অভিযোগ ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরীক্ষার্থীদের একাংশ ও অভিভাবকদের দাবি, জাতীয় স্তরের একটি পরীক্ষায় সামান্যতম অনিয়মও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার ভিত দুর্বল করে দিতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর পরীক্ষার হলে বসা একজন শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে বড় আশ্বাস হল—প্রতিযোগিতার ময়দানটি সবার জন্য সমান।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তদন্তের মূল লক্ষ্য হল অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা, যদি কোনো অনিয়ম ঘটে থাকে তবে তার উৎস চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো আইনসঙ্গত নয়।
এই ঘটনাপ্রবাহে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা NTA এর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার ব্যবস্থায় আরও কী উন্নতি আনা যায়। প্রশাসনের বক্তব্য, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং প্রমাণিত অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটি অবশ্য পরীক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থায়। একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে NEET একটি পরীক্ষা নয়,এটি তাঁদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সামান্য সংশয়ও তাঁদের মনে তৈরি করে অনিশ্চয়তার আবহ।
শিক্ষাবিদদের মতে, জাতীয় স্তরের পরীক্ষার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাধীন নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং তথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। কারণ একটি পরীক্ষার প্রকৃত শক্তি শুধুমাত্র তার কঠিন প্রশ্নে নয়, বরং সেই পরীক্ষার প্রতি মানুষের অটুট বিশ্বাসে।
NEET বিতর্ক তাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কাছে একটি আত্মসমীক্ষার মুহূর্ত। মেধার মূল্য রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে প্রতিটি পরীক্ষার্থী বিশ্বাস করতে পারে—তার পরিশ্রমের সঙ্গে কোনো আপস হবে না।
শেষ পর্যন্ত একটি জাতির ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের নির্বাচন যে পরীক্ষার মাধ্যমে হয়, সেই পরীক্ষার প্রতি আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এটি সমগ্র সমাজব্যবস্থার সম্মিলিত প্রত্যাশা। কারণ স্বচ্ছতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে ওঠে আগামী দিনের বিশ্বাসযোগ্য শিক্ষা ব্যবস্থা।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
