বিদেশ সফরে ₹৫৫৭.৫১ কোটি ব্যয়, বিপরীতে দেশে এসেছে প্রায় ₹৩৯.৩ লক্ষ কোটি FDI

বিদেশ সফরে ₹৫৫৭.৫১ কোটি ব্যয়, বিপরীতে দেশে এসেছে প্রায় ₹৩৯.৩ লক্ষ কোটি FDI — সংসদে প্রকাশিত সরকারি তথ্য ঘিরে নতুন আলোচনা

 

দেবপ্রিয়া বারিক | সিনিয়র রিপোর্টার | রঙ নিউজ

নয়াদিল্লি | ৭ আগস্ট

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭টি সরকারি বিদেশ সফরে মোট ₹৫৫৭.৫১ কোটি সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে রাজ্যসভায় লিখিত উত্তরে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রক (MEA)। একইসঙ্গে কেন্দ্র সরকার জানিয়েছে, এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ফলে ভারতে এসেছে প্রায় ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ₹৩৯.৩ লক্ষ কোটি) প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)।

সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিদেশ সফরগুলি শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্য এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

সংখ্যার নিরিখে তুলনা

 

বিদেশ সফরের সরকারি ব্যয়: ₹৫৫৭.৫১ কোটি

 

এপ্রিল ২০২১–ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে FDI: প্রায় ₹৩৯.৩ লক্ষ কোটি

 

 

অর্থাৎ, সরকারি তথ্য অনুযায়ী FDI-এর পরিমাণ বিদেশ সফরের মোট ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৭,০০০ গুণেরও বেশি।

 

তবে উল্লেখ্য, এই FDI-এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরকে দেওয়া যায় না। বিদেশি বিনিয়োগ নির্ভর করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভারতের নীতিগত সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, বাজারের সম্ভাবনা, শিল্পনীতি এবং বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগসহ একাধিক বিষয়ের উপর। সরকারের দাবি, কূটনৈতিক সফরগুলি এই বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

 

অন্যদিকে, বিরোধী পক্ষ বিদেশ সফরের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও কেন্দ্রের যুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় এই ধরনের সরকারি সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

এক নজরে

 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭টি বিদেশ সফরে ব্যয়: ₹৫৫৭.৫১ কোটি।

 

এপ্রিল ২০২১–ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ₹৩৯.৩ লক্ষ কোটি) FDI।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, FDI-এর পরিমাণ বিদেশ সফরের ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৭,০০০ গুণেরও বেশি।

 

বিদেশ সফরকে সরকার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরেছে।

 

FDI বৃদ্ধির পেছনে একাধিক অর্থনৈতিক ও নীতিগত কারণ কাজ করে; বিদেশ সফর তার একটি সম্ভাব্য সহায়ক উপাদান বলে সরকারের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *