বিষ মদে মৃত ১০ হাওড়ায়,আক্রান্ত বহু
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
হাওড়ায় বিষ মদের শিকার ১০ জন। সরকারি হিসাব মতে বিষ মদ পান করে ১০ জন মৃত হলেও বেসরকারি হিসাবে সংখ্যাটা আরও বেড়ে অন্ততপক্ষে ১৫ বলে দাবি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া সিটি পুলিশের অন্তর্গত মালিপাঁচঘড়া থানার ঘুসুড়ির ধর্মতলা এলাকার গজানন বস্তিতে। অভিযোগ যে এলাকার ধর্মতলায় একটি মদের দোকান থেকে মদ কিনে খেয়ে বুধবার সকাল থেকেই অসুস্থ হয়ে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বহু মানুষ। এছাড়াও হাওড়ার জয়সওয়াল হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালেও বিষাক্ত মদে আক্রান্তের ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা ক্রমেই বাড়ছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই ঘটনায় রীতিমত উত্তেজিত এলাকাবাসী। উত্তপ্ত ঘুসুড়ির ধর্মতলা এলাকার মদের দোকানটিতে ভাঙচুর চালায় এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠছে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী। বিষাক্ত মদ খেয়ে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে স্থানীয় মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ। এসে পৌঁছন হাওড়া সিটি পুলিশের পুলিশ কমিশনার প্রবীণ ত্রিপাঠি সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। স্থানীয় সূত্রে দাবি, গজানন বস্তি ছাড়াও আশেপাশের এলাকার বহু মানুষ বিষাক্ত মদ খেয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি ইতিমধ্যে অন্তত ১৫ জন মানুষ বিষ মদ খেয়ে মৃত। ঘটনার তদন্তে নেমেছে মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ। তদন্তে নেমেছে রাজ্য আবগারি দপ্তর।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বহু মানুষ কাজের সূত্রে গজানন বস্তিতে থাকেন। এদের মধ্যে অনেকেই ভিন রাজ্যের বাসিন্দা। পুলিশ খোঁজ নিয়ে দেখছে আর কেউ আক্রান্ত আছে কিনা। গজানন বস্তি ঘিঞ্জি এলাকা। অলিতে গলিতে ঘরে ঘরে বিষাক্ত মদে আক্রান্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। কয়েকজনকে পুলিশি তৎপরতায় হাসপাতালে ভর্তি করাও হয়।
ওঙ্কার প্রসাদ নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমার সামনেই কম সে কম ২৫ জনকে আনা হয় হাসপাতালে। সব একই এলাকার লোক। আমার চোখের সামনেই তো মারা গেল কয়েকজন। সব ধর্মতলা ফাঁড়ির কাছে একটি মদের দোকান থেকে মদ কিনে খেয়েছে।’ অপর এক বাসিন্দা রূপা মিত্র বলেন, ‘আমার বাড়ির লোক ওই দোকান থেকে মদ কিনে খায়। মদ খাওয়ার পরই বমি করছিল। বমি করতে করতে বলে শরীরটা খারাপ লাগছে। তারপর শুয়ে পড়ে। কখন যে মারা গেল জানি না। মনে হয় এই বিষাক্ত মদ খেয়েই মারা গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল থেকেই শুনছি এলাকার অনেক লোক বিষ মদ খেয়ে মারা গিয়েছে।’
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
