না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘এক টাকার ডাক্তার’
তৃণা মুখোপাধ্যায় , Rong News, বীরভূম
দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে রোজ প্রায় দেড়শো জন করে রোগী দেখা ডাক্তার অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনে ‘না ফেরার দেশে’ চলে গেলেন বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র রায়ের অন্যতম প্রিয় ছাত্র ডা: সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। বীরভূম ও আশেপাশের মানুষের কাছে তিনি ‘এক টাকার ডাক্তার’ নামে পরিচিত ছিলেন। প্রসঙ্গত মায়ের নির্দেশে আজীবন তিনি মাত্র ‘এক টাকায়’ চিকিৎসা করে গেলেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছেন।
১৯৩৯ সালে সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন। বরাবরের মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। বিদেশ থেকে ডাক্তারী পাস করলেও আপাদমস্তক তিনি বাঙালি ছিলেন। ধুতি পাঞ্জাবী তিনি বেশি পচ্ছন্দ করতেন । গত কয়েকদিন ধরে বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাকে দুর্গাপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার মেয়ে-জামাই, যারা নিজেরাই ডাক্তার, তাকে উত্তর কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তিনি আজ সকাল ১১ টা ২৫ মিনিট নাগাদ মারা যান।
তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বোলপুর ও তার আশেপাশের গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যে তাদের প্রিয় ‘ডাক্তার বাবু’-কে দেখার জন্য বোলপুরের হরগৌরিতলায় তার বাড়ির সামনে মানুষের ঢল নেমেছে। যদিও এখনো কলকাতা থেকে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা যাচ্ছে আগামীকাল বোলপুরে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
ডাক্তার বাবুর অন্যতম স্নেহভাজন খায়রুল আনাম বললেন – এরকম একজন মানুষের কাছে থাকা চরম সৌভাগ্যের এবং আমি সেই সৌভাগ্য অর্জন করেছিলাম। এত বড় ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও কোনোদিন অর্থের পেছনে ছোটেননি। গরীব মানুষের জন্য তার ছিল অবারিত দ্বার। এমনকি করোনার সময়ও তিনি কাউকেই আশাহত করেননি। ডাক্তার বাবুকে হারিয়ে সত্যিই আমরা অনাথ হয়ে গেলাম।
Sub Editor – Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
