‘ অশ্রুত কোকিলকন্ঠী লতা মঙ্গেশকর’
অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়
রঙ নিউজ,কলকাতা
ঠিক একমাস থেকে তিনটি দিন বাকি থাকতে হার মানলেন তিনি–সুরের সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। কোভিড আক্রান্ত হয়ে গত ৮ ই জানুয়ারি ভর্তি হয়েছিলেন মুম্বাইয়ের ব্রীচক্যান্ডি হাসপাতালে।শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে,তাকে রাখা হয় আইসিসি ইউতে।চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাও চলছিল।কিন্ত রবিবার বসন্ত পন্চমীর দিনে তিনি চলে গেলেন।বয়স হয়েছিল৯২ বছর।এই কোকিলকন্ঠী র মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া।প্রধানমন্ত্রী সহ বহু বিশিষ্ট জন শোক জ্ঞাপন করে চলেছেন।আপামর ভক্তকুল ও শোকের আবহাওয়ায়।
লতাজীর জন্ম ১৯২৯ সালের২৮শে সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশে। পিতা দীননাথ মঙ্গেশকর ও মাতা শিবন্তী মঙ্গেশকর।বিখ্যাত গায়িকা আশা ভোঁসলে তাঁর ছোট বোন।এছাড়াও তাঁর দুই বোন ও এক ভাই রয়েছেন।পিতা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন মারাঠি ও কোঙ্কিনী সঙ্গীতজ্ঞ।তাঁর পিতার ইচ্ছে ছিল লতাজী যেন শুধু রাগ সঙ্গীতের সাধনা করেন।তাই ছোটবেলায় বাড়িতে কে.এল সায়গল ছাড়া আর কোন গান গাওয়ার অনুমতি ছিলনা।গায়িকার বয়স যখন ১৮ বছর,তখন তাঁর একটি রেডিও কেনার সামর্থ হয়।কিন্ত রেডিও কেনার পর প্রথম যে খবরটি তিনি শুনেছিলেন, সেটি ছিল কে.এল সায়গলের মৃত্যু সংবাদ।এরপর তিনি মর্মাহত হয়ে রেডিও টি ফিরত দিয়ে দিয়েছিলেন।
কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকর প্রায় এক হাজারের ও বেশি হিন্দি ছবিতে প্লে ব্যাক করেছেন।ভারতবর্ষের সঙ্গীত জগতে তিনি ছিলেন সুরের সম্রাজ্ঞী।ভারতবর্ষের ৩৬টি আন্চলীক ভাষায় অত্যন্ত সাবলীল ভাবে তিনি গান গেয়েছেন এবং একই সঙ্গে বিদেশী ভাষায় গান তিনিই একমাত্র গেয়েছিলেন।
আজ থেকে ৮০ বছর আগে শুরু হয়েছিল তাঁর গানের সফর।দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার “ভারত রত্ন”সহ বহু পুরস্কারে তিনি ভূষিতা।তাঁর কোকিল কন্ঠে আসমুদ্র হিমাচল ভেসে গিয়েছে।সুর সম্রাজ্ঞীর প্রথম জীবনে নাম ছিল হেমা।কিন্ত তাঁর পিতার আয়োজিত’ভাব বন্ধন’নাটকে লতিকার চরীত্রে অভিনয় করছিলেন তিনি।এরপর থেকেই তার নাম পরিবর্তে রাখা হয় লতা। এই নামেই হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়।১৯৪৪ সালে মারাঠি ছবি “কিটি হাসালে”প্রথম গান গেয়েছিলেন।উপার্জন করেছিলেন মাত্র ২৫ টাকা।ঈশ্বর অবিনশ্বর।তাই সুরের সরস্বতী থেকে যাবে মানুষের মনে চিরকাল ই।

