রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ১৩

 

রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়

কালচারাল কোঅর্ডিনেটার

রঙ নিউজ

 

 

 

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত আরও এক ধাপ ভয়াবহ হয়ে উঠল। রাশিয়ার ভূখণ্ডের প্রায় ৭৫০ মাইল ভিতরে ঢুকে তাতারস্থানের নিজনেকামস্ক শিল্পাঞ্চলে তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে বড়সড় ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হামলা ও পরবর্তী বিস্ফোরণে শিশু-সহ অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত প্রায় ৭৫ জন।

সোমবার সকালে কয়েক দফায় হামলা হয় নিজনেকামস্কে। তাতারস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পশহর এই নিজনেকামস্ক রাশিয়ার জ্বালানি ও রাসায়নিক উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। হামলার নিশানায় ছিল তানেকো (Taneco) তেল শোধনাগার। ড্রোন আঘাত হানার পর শোধনাগারের একাধিক ইউনিটে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের সেনা সদর দফতর। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বিস্ফোরণ এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেই মূলত হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত প্রায় ৭৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

 

কেন এই হামলা, কী বলছে কিয়েভ?

 

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার সামরিক ক্ষমতা এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ভিত্তিতে আঘাত হানতেই এই হামলা। কিয়েভের ভাষায়, এটি ‘মেড ইন ইউক্রেন’ ড্রোন দিয়ে চালানো পরিকল্পিত হামলা। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি আগেই জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের উপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে তার জবাব রাশিয়ার মাটিতেই দেওয়া হবে।

ইউক্রেনের কৌশল, রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তেল ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় আঘাত হেনে মস্কোর উপর চাপ বাড়ানো এবং তাকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা।

 

অন্য দিকে, তাতারস্থানের প্রধান রুস্তম মিন্নিকানভ এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, এটি অত্যন্ত নৃশংস এবং অমানবিক হামলা। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস করেছিল। তবে সেই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে এবং কিছু ড্রোন সরাসরি আঘাত হানায় অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

রুশ জ্বালানি ব্যবস্থায় বাড়ছে চাপ

 

গত কয়েক মাস ধরেই রাশিয়ার ভূখণ্ডে একের পর এক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। বিমানঘাঁটি, গোলাবারুদের ডিপো থেকে শুরু করে তেল শোধনাগার—বার বার নিশানা করা হচ্ছে রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে। ইউক্রেনের দাবি, নিজেদের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেই এই হামলাগুলি চালানো হচ্ছে।

 

পর্যবেক্ষকদের একাংশের আশঙ্কা, রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগারে ধারাবাহিক হামলার প্রভাব পড়তে পারে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে। তৈরি হতে পারে জ্বালানির ঘাটতিও। রাশিয়া যেমন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নাগরিক পরিকাঠামোকে নিশানা করছে, পাল্টা রাশিয়ার জ্বালানি ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানছে কিয়েভ। ফলে যুদ্ধের পরিধি ক্রমশই আরও বিস্তৃত এবং জটিল হয়ে উঠছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *