ক্ষাত্রতেজা ব্রাহ্মণ পরশুরাম
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

পিতার আদেশ শিরোধার্য। তাই পিতার আদেশ মেনেই ধারালো কুঠারের এক কোপে নিজের মায়ের মুন্ডচ্ছেদ করেন তিনি! তিনি অমিত বলশালী, অসীম তেজস্বী, প্রবল পরাক্রমী ক্ষাত্রতেজ সম্পন্ন ব্রাহ্মণ পরশুরাম। ব্রাহ্মণ পিতা ও ক্ষত্রিয় মাতার ঔরসজাত সন্তান হয়ে একুশবার ধরিত্রীকে নিঃক্ষত্রিয় করে ধর্ম রক্ষা করে ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার শস্ত্রধারী মহাতেজা ব্রাহ্মণ পরশুরাম জন্ম গ্রহণ করেন অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্য তিথিতে। ফলে অক্ষয় তৃতীয়াকে পরশুরাম জয়ন্তী হিসাবেও পালন করা হয়ে থাকে। ত্রেতা যুগে বিষ্ণুর সপ্তম অবতার পুরুষোত্তম মর্যাদাপুরুষ রামচন্দ্রের সাক্ষাৎ যেমন পেয়েছেন তেমন দ্বাপরে অষ্টম অবতার কুরুক্ষেত্র খ্যাত ভারতপুরুষ শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাৎও পেয়েছেন।
এবার চোখ রাখা যাক পরশুরামের জন্ম প্রসঙ্গে।প্রাচীন ভারতের তপোবনে ঋষির কুটিরে জন্ম নেন এক সুলক্ষণ যুক্ত শিশুপুত্র। পিতা অসীম তেজস্বী ঋষি জমদগ্নি। মাতা ক্ষত্রিয় কন্যা রেণুকা। জমদগ্নি শিশুপুত্রটির নাম রাখলেন রাম। বড়ো হয়ে ওঠে রাম। শৈশব থেকেই পিতামাতাকে ঈশ্বর জ্ঞানে পুজো করে সে। জ্ঞানী পিতার থেকে শাস্ত্র শিক্ষা করেন মেধাবী রাম। এর পাশাপাশি শস্ত্র চালনাতেও উৎসাহী সে। তিরন্দাজি থেকে অসি চালনা সবেতেই সিদ্ধহস্ত সে। প্রবল শিবভক্ত রাম। ভগবান শঙ্কর তার আরাধ্য দেবতা। মহেন্দ্র পর্বতে বসে শিবকে তপস্যায় তুষ্ট করে লাভ করলেন প্রবল পরাক্রমশালী ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক কুঠার। কুঠারের অপর নাম পরশু। ফলে পরশু হাতে নিয়ে তার নাম হলো পরশুরাম। পরশুরাম ও তাঁর কুঠার যেন এক ও অভিন্ন।
জমদগ্নির আশ্রমে প্রচুর শিক্ষার্থী। কেউ ব্রাহ্মণ। কেউ বা ক্ষত্রিয়। তেমনই এক ক্ষত্রিয় সন্তান রাজপুত্রের সঙ্গে সামান্য চিত্ত বিনিময় হয় রেণুকার। স্ত্রীর পদস্খলন মানতে পারলেন না জমদগ্নি। এই অধার্মিকতা যে ক্ষত্রিয়রাই করে থাকে! পুত্র রামকে আদেশ করলেন রেণুকার শিরোচ্ছেদ করতে। বদলে যা বর চাইবে তা দিতে প্রস্তুত জমদগ্নি। পিতার আদেশ শিরোধার্য করে কুঠার ওঠাল রাম। চোখের পলকে ধারালো কুঠারের এক কোপে ধড় মুন্ড আলাদা হয়ে গেল রেণুকার। খুশি হলেন জমদগ্নি। বর চাইতে বললেন পুত্রকে। মায়ের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার বর চেয়ে বসলেন রাম! মঞ্জুর হলো তার প্রার্থনা। বেঁচে উঠলেন রেণুকা। কিন্তু নবজন্ম হলো রামের। ক্ষত্রিয়রা যে আদতে অধার্মিক তা বদ্ধমূল ধারণা হলো তার। এরপর যেখানে ক্ষত্রিয়রা বাড়াবাড়ি করেছে সেখানেই তির ধনুক কাঁধে, কুঠার হাতে উপস্থিত পরশুরাম। কামধেনু গাভীকে বলপূর্বক হরণের অপরাধে কুঠারের আঘাতে হাত কেটে ফেলে শাস্তি দিলেন রাজা কার্তবীর্যকে। এইভাবে মোট একুশবার ধরিত্রীকে ক্ষত্রিয়হীন করেন পরশুরাম।
মহান শিক্ষক পরশুরাম। তাঁর শিষ্যের তালিকায় হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনু ও গঙ্গার পুত্র দেবব্রত ভীষ্ম, ঋষি ভরদ্বাজ পুত্র দ্রোণাচার্য, অধিরথ পুত্র কর্ণ প্রমুখ তাবড় মহারথীরা। যুদ্ধে কখনো বর্ম, শিরস্ত্রাণ ব্যবহার করেননি পরশুরাম। বেদ যাঁর অস্ত্র, গায়ত্রী যাঁর বর্ম তাঁর মতো তেজস্বী ক্ষাত্রতেজা ব্রাহ্মণের আর কী বা প্রয়োজন! সেই তেজ অবলম্বন করে কৈলাশে গুরু শিবের সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে গণেশের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে কুঠারের আঘাতে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে দেন পরশুরাম। ফলে গণেশের নাম হয় একদন্ত।
অনেক যুদ্ধ হলো। প্রতিবাদ করা হলো অনেক অন্যায়, অনৈতিকতা, অধার্মিকতার। এবার প্রিয় মহেন্দ্র পর্বতে নিরিবিলিতে ফের অখন্ড তপস্যায় ডুবে যাওয়া। আর অতন্দ্র প্রতীক্ষা। তিনি আসছেন। কলিযুগের শেষে অধর্ম নাশ করে ধর্ম সংস্থাপনা করতে অবতীর্ণ হবেন বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কি। কলিযুগ যে অতি প্রবল। তাই তাঁর পাশে যে দাঁড়াতে হবে! তাই তো তাঁর মৃত্যু নেই। তিনি চিরঞ্জীবী!
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
