দীক্ষা নিয়ে শক্তিরূপীনি দেবী হলেন বৈষ্ণবী

Views: 44
3 0

দীক্ষা নিয়ে শক্তিরূপীনি দেবী হলেন বৈষ্ণবী

 

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

দীক্ষা নিয়ে শক্তিরূপীনি পরম শাক্ত দেবী হয়ে উঠলেন বৈষ্ণবী! আক্ষরিক অর্থেই এক বিস্ময়কর সর্বৈব সত্য ঘটনা। তিনি বৈষ্ণবী দেবী। লোকমুখে বৈষ্ণোদেবী। সিংহবাহিনী দেবী দুর্গার আরেক রূপ উত্তর ভারতের কাশ্মীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে হিমালয়ের শাখা ত্রিকুট পর্বতের গুহা কন্দরে শিলামূর্তিতে আজও স্বমহিমায় বিরাজমান বিষ্ণুশক্তির অধিকারীনি জাগ্রত তীর্থ মাতারাণী বৈষ্ণোদেবী।

 

তবে কেমন করে পরম শক্তিরূপীনি স্বয়ং আদ্যাশক্তি মহামায়া বৈষ্ণবী হলেন তা জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় ৭০০ বছর। এ বিষয়ে সর্বসম্মত মত যে শ্রীধর নামে এক ব্রাহ্মণ পন্ডিতের হাত ধরে জাগ্রত তীর্থ বৈষ্ণোদেবীর প্রসিদ্ধি। তিনিই ত্রিকুট পর্বতে গুহার মধ্যে তিনটি শিলামূর্তি প্রত্যক্ষ করেন যা কিনা মহাকালী, মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতী নামে প্রসিদ্ধ। শ্রীধর পন্ডিত বৈষ্ণোদেবীর পুজো প্রচলন করেন। কথিত আছে যে দ্বাপর যুগে এই গুহা মন্দিরে মাতৃপূজা সম্পন্ন করেন পান্ডবরা। বিশ্বাস যে মা স্বয়ং মানবী রূপে এই তীর্থে সর্বদা বিরাজমান! পরবর্তীতে প্রচুর শিষ্য সহ এই তীর্থে আসেন নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের মহান বৈষ্ণব সাধক হরিব্যাসাচার্য। কিন্তু জানতে পারেন যে পশুবলি দিয়ে পুজো হয় দেবীর। ফলে এখানে ভোজন করতে নারাজ হন বলি প্রথার ঘোর বিরোধী পরম বৈষ্ণব সাধক হরিব্যাসাচার্য। বৈষ্ণব সন্তানরা অভুক্ত থাকবেন তা কেমন করে মানবেন দেবী মা! তিনি যে মা! স্বয়ং জগজ্জননী। এতে যে বৈষ্ণব অপমান হবে! তা তো চলতে পারে না। ফলে সাধকের সামনে আবির্ভূত হয়ে আহার গ্রহণ করতে কাতর আর্জি জানালেন দেবী। দুটি শর্ত দিলেন হরিব্যাসাচার্য। প্রথমত পশুবলি বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত দীক্ষা নিয়ে শক্তিরূপীনি মাকে হতে হবে বৈষ্ণবী! ভক্তের ভগবান আদ্যাশক্তি মহামায়া দেবী দুর্গা। ভগবানের থেকে ভক্ত যে সবসময়ই বড়ো। ভক্ত আছে তো ভগবানও আছেন। সাধক হরিব্যাসাচার্যের থেকে তুলসীমালা ধারণ করে বিষ্ণু মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে শক্তিরূপীনি মা হলেন পরম বৈষ্ণবী। বন্ধ হলো বলি প্রথা। আহার গ্রহণ করলেন শিষ্য সহ সাধকপ্রবর।

কাশ্মীরের জম্মু থেকে কাটরা, ভৈরবঘাঁটি হয়ে পৌঁছে যেতে হয় ১৬১৪ মিটার উচ্চতায় মাতারাণী বৈষ্ণোদেবী দর্শনে। ‘চলো বুলায়া আয়া হ্যায়, মাতানে বুলায়া হ্যায়…’ গান গাইতে গাইতে সারা বছরই কমবেশি দর্শনার্থীরা আসেন মায়ের চরণ বন্দনা করতে। বিশ্বাস যে ভক্তিভরে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করলে তাঁর ভক্তকে কখনো খালি হাতে ফেরান না মা। প্রাকৃতিক জলধারা বাণগঙ্গায় পা ভিজিয়ে রক্তবস্ত্রে আচ্ছাদিত দেবাদিদেব মহাদেবের অংশ মাতা মহাকালী, জগৎপালক বিষ্ণুর অংশ মাতা মহালক্ষ্মী সৃষ্টিকর্তা প্রজাপতি ব্রহ্মার অংশ মাতা মহাসরস্বতী রূপে তিনটি শিলারূপীর একীভূত রূপ মাতারাণী বৈষ্ণোদেবীকে দর্শন করে পুজো দিয়ে ‘সারে বোলে জয় মাতাদি, মিলকে বোলে জয় মাতাদি, শেরাওয়ালি জয় মাতাদি, লাটাওয়ালি জয় মাতাদি, পর্বতওয়ালি জয় মাতাদি বলে তাঁর নামে জয়ধ্বনি দেন সংসার তাপদগ্ধ অসংখ্য মানুষ।।

 

 

 

 

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী

এডিটর – দিব্যেন্দু দাস

এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা

Happy
Happy
3
Sad
Sad
0
Excited
Excited
0
Sleepy
Sleepy
0
Angry
Angry
0
Surprise
Surprise
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *