হ্যাকিংয়ের পরেও আইআইটিতে ভর্তির সুযোগ? দক্ষতা যাচাইয়ে আগ্রহী কর্তৃপক্ষ
সুস্মিতা চক্রবর্তী
দমদম ক্যান্টনমেন্ট, রঙ নিউজ
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের নজির গড়তে চলেছে ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান (আইআইটি) কানপুর। সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত একটি ঘটনায় অভিযুক্ত এক ছাত্রের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূল্যায়নে সন্তোষজনক ফল মিললে তাকে আইআইটি কানপুরের নবপ্রবর্তিত ব্যাচেলর অফ সাইবার সিকিউরিটি স্নাতক কোর্সে ভর্তির দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ছাত্রটি ওই কোর্সে ভর্তি হতে ব্যর্থ হওয়ার পর আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ (হ্যাকিং) করে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিষয়টি সামনে আসে। সেই কারণেই শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তার সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আইআইটি কানপুরের অভিমত, সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রের প্রতিভা ও দক্ষতাকে যথাযথভাবে চিহ্নিত ও সঠিক পথে পরিচালিত করাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই অভিযুক্ত ছাত্রের কারিগরি দক্ষতা, নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সাইবার নিরাপত্তা–সংক্রান্ত জ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়নের ফল সন্তোষজনক হলে তাকে কোর্সে পুনরায় আবেদন বা ভর্তির সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
তবে প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেই সাইবার অপরাধের প্রতি সহনশীলতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং প্রযুক্তিগত মেধাকে আইনসম্মত ও গঠনমূলক কাজে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত নৈতিকতা ও আইন মেনে চলার বিষয়েও ছাত্রটিকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, আইআইটি কানপুর সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাচেলর অফ সাইবার সিকিউরিটি কোর্স চালু করেছে। বর্তমান ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি প্রতিভা বিকাশের একটি অভিনব উদ্যোগ, আবার অন্য একাংশের মতে, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ভুল বার্তা দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি করতে পারে।
যদিও আইআইটি কানপুর এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ছাত্রটির দক্ষতা মূল্যায়নের ফলাফল এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তিনি আদৌ দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগ পাবেন কি না।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
