FCRA সংশোধনী ঘিরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের মন্তব্যে জবাব কেন্দ্রের

FCRA সংশোধনী ঘিরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের মন্তব্যে জবাব কেন্দ্রের

“বিদেশি আপত্তি উড়িয়ে দিল্লির বার্তা—ভারতের আইন, সিদ্ধান্তও ভারতের”

দেবপ্রিয়া বারিক : সিনিয়র রিপোর্টার : রঙ নিউজ

 

নয়াদিল্লি: বিদেশি অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারতের প্রস্তাবিত FCRA সংশোধনীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতেই এবার অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানানোর পর শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দিল—ভারতের আইন কী হবে, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ভারতের সংসদের।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ৭ আগস্টের নিয়মিত সংবাদ-ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতের নিজস্ব আইন সংক্রান্ত বিষয় সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়। একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আমেরিকাসহ বিশ্বের একাধিক দেশ বিদেশি অর্থ ও বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করে।

বিতর্কের কেন্দ্রে কী?

প্রস্তাবিত Foreign Contribution (Regulation) Amendment Bill, 2026-এ FCRA-র আওতায় থাকা কোনও সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, আত্মসমর্পণ বা নবীকরণ না হলে বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পত্তি ও সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য একটি Designated Authority গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনাস্থল এমন সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হলে তার ধর্মীয় চরিত্র বজায় রাখার কথাও প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রয়েছে।

এই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।

মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্য রাইলি মুর অভিযোগ করেছেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে চার্চ ও ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। তিনি এটিকে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তবে এটি মুরের অভিযোগ ও রাজনৈতিক মন্তব্য—ভারত সরকারের ঘোষিত অবস্থান নয়। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক সেই সমালোচনার জবাবে মূলত আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ও সার্বভৌম অধিকারের কথাই সামনে এনেছে।

অমিত শাহের বৈঠক, উদ্বেগ প্রশমনের চেষ্টা

FCRA সংশোধনী নিয়ে দেশের ভিতরেও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে চার্চ সংগঠন ও কয়েকটি মহল প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা-র বক্তব্য অনুযায়ী, অমিত শাহ তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রস্তাবিত FCRA পরিবর্তন পূর্ববর্তী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে পশ্চাৎমুখীভাবে প্রয়োগ করা হবে না। অর্থাৎ, নতুন বিধান কার্যকর হলে তা অতীতের ঘটনাকে নতুন নিয়মে শাস্তিযোগ্য করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না—এমন আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

বিল কি সত্যিই ‘পাস’ হয়ে গেল?

না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এটাই—FCRA সংশোধনী বিল এখনও প্রস্তাবিত আইন; এটি ইতিমধ্যে পাস হয়ে কার্যকর আইন হয়ে যায়নি।

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিলটি কবে বিবেচনায় আসবে এবং সরকার শেষ পর্যন্ত সেটি পাস করাতে পারবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। বিরোধীরাও বিষয়টি নিয়ে নিজেদের কৌশল ঠিক করছে। ফলে আগামী কয়েক দিন সংসদে FCRA নিয়ে রাজনৈতিক চাপ ও পাল্টা চাপ আরও বাড়তে পারে।

সংখ্যার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ FCRA

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, FCRA-র উদ্দেশ্য হল বিদেশি অনুদান ও বিদেশি অর্থায়ন এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাতে সংগঠনগুলির কাজ দেশের আইন ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে তাই মূল প্রশ্ন শুধু বিদেশি অনুদান নয়—বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পদ, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের তদারকির সীমা কতটা হবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে।

দিল্লির বার্তা একটাই

বিদেশ থেকে আসা সমালোচনার জবাবে আপাতত কেন্দ্রের অবস্থান পরিষ্কার—ভারতের আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের সংসদই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *