চাঁদে আছড়ে পড়ল স্পেসএক্সের রকেটের ধ্বংসাবশেষ, তৈরি হলো বিশাল গহ্বর!

চাঁদে আছড়ে পড়ল স্পেসএক্সের রকেটের ধ্বংসাবশেষ, তৈরি হলো বিশাল গহ্বর!

 

প্রতীক চ্যাটার্জী, রঙ নিউজ

 

মহাকাশে ভাসমান স্পেসএক্সের (SpaceX) একটি রকেটের ধ্বংসাবশেষ অবশেষে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে। বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬ ভোরে ফ্যালকন ৯ (Falcon 9) রকেটের দ্বিতীয় অংশটি চাঁদের পৃষ্ঠে তীব্র বেগে আঘাত হানে, যার ফলে সেখানে একটি নতুন গহ্বর বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন।

 

প্রায় ৪ টন ওজনের এবং একটি স্কুল বাসের আকারের এই রকেট অংশটি ঘন্টায় প্রায় ৫,৪০০ মাইল (৮,৬৯০ কিলোমিটার) বেগে চাঁদের উত্তর গোলার্ধে ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’ (Einstein Crater)-এর কাছাকাছি আঘাত হানে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই সংঘর্ষের ফলে প্রায় ৩ টন টিএনটি (TNT) বিস্ফোরণের সমতুল্য শক্তি উৎপন্ন হয়। এর ফলে প্রচুর পরিমাণে চাঁদের ধুলোবালি ও পাথর চারদিকে ছিটকে ওঠে। এই প্রচণ্ড ধাক্কার ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ ফুট চওড়া এবং ১২ থেকে ১৬ ফুট গভীর একটি গহ্বর তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাসার (NASA) ‘লুনার রিকনস্যান্স অরবিটার’ (LRO) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দানুরি’ (Danuri) অরবিটার এই নতুন গহ্বরের ছবি তোলার জন্য তাদের ক্যামেরা প্রস্তুত রেখেছে।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের (Firefly Aerospace) একটি ল্যান্ডারকে চাঁদের দিকে পাঠানোর জন্য এই রকেটটি ব্যবহার করা হয়েছিল। মিশন শেষে রকেটের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় এটিকে আর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত রকেটের এই অংশগুলো পৃথিবীতে ফিরে এসে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যায় বা সমুদ্রে পড়ে। কিন্তু প্রায় ১৮ মাস ধরে মহাকাশে ভাসতে ভাসতে সূর্য এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে এর কক্ষপথ পরিবর্তিত হয়ে এটি চাঁদের দিকে ধেয়ে যায়।

 

স্পেসএক্সের মতে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। পৃথিবীর জন্য এটি কোনো বিপদের কারণ না হলেও বিজ্ঞানীরা এটিকে চাঁদের ভূতত্ত্ব গবেষণার একটি বিরল সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বোস্টন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী কার্ল শ্মিট জানিয়েছেন, এই ধরণের ঘটনা থেকে চাঁদের পরিবেশ সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানা সম্ভব। ইতিমধ্যেই চিলিতে অবস্থিত ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ (VLT)-এর মাধ্যমে এই সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট গ্যাস এবং ধূলিকণার মেঘ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *