ছক কষা হয়েছিল এক বছর আগে!
রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়
কালচারাল কো-অর্ডিনেটর
রঙ নিউজ
মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)। বারাসত আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর দাখিল হওয়া এই চার্জশিটকে মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট মহল।
সিবিআইয়ের দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের পরিকল্পনা নতুন নয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকেই তাঁকে হত্যার ছক কষা শুরু হয়েছিল। তবে উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় ছিল অভিযুক্তেরা। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ৬ মে সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গোটা ষড়যন্ত্রের মূল হোতা সাগর সোনকার এবং তার ভাই সাহেব। চার্জশিট অনুযায়ী, এই দুই ভাই একসময় চন্দ্রনাথ রথের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সম্পর্কের অবনতি এবং ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই তাঁরা খুনের পরিকল্পনা করেন বলে সিবিআইয়ের অভিযোগ। তদন্ত-সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোর লক্ষ্য থেকেও এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়ে থাকতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার তদন্ত এখনও চলছে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের ভাড়া বাড়িতে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন চন্দ্রনাথ রথ। গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই মামলায় ইতিমধ্যেই ৬ জন শুটারকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। চার্জশিটে তাঁদের নাম রয়েছে— মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গুলু সিংহ, ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিংহ।
শুধু শুটারদেরই নয়, ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগে তিন জনকে ‘মিডিলম্যান’ হিসেবেও চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে তাঁদের নাম রয়েছে— বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র। সিবিআইয়ের অভিযোগ, খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই তিন জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তবে তদন্ত এখানেই শেষ নয়। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে ১১ জনের নাম থাকলেও এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও কয়েক জন এখনও পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। একই সঙ্গে গোটা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের আরও তথ্য সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে।
প্রথম চার্জশিট আদালতে জমা পড়ার পর থেকেই বহুচর্চিত এই হত্যাকাণ্ডের আইনি লড়াই নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার ঘিরে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
