জীবিত স্ত্রীকে ‘মৃত’ ঘোষণা! যমুনার তীরে পিণ্ডদান,

জীবিত স্ত্রীকে ‘মৃত’ ঘোষণা! যমুনার তীরে পিণ্ডদান, WhatsApp-এ ‘স্বর্গীয়’ স্ট্যাটাস—পলাতক স্বামীর খোঁজে পুলিশ

 

ফিরোজাবাদ, উত্তরপ্রদেশ | সংবাদদাতা — শাশ্বতী মোদক

 

স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য অশান্তির জেরে এমন কাণ্ড ঘটালেন এক ব্যক্তি, যা দেখে রীতিমতো হতবাক পুলিশও। জীবিত স্ত্রীকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে তাঁর ছবিতে ‘স্বর্গীয়’ লিখে যমুনার তীরে গিয়ে পিণ্ডদান করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সেই পিণ্ডদানের ভিডিও করে WhatsApp Status-এও প্রকাশ করেন তিনি। ঘটনার কথা জানতে পেরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্ত্রী। অভিযুক্ত স্বামীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

 

ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ জেলার বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ২০১৪ সালে জিতেন্দ্র প্রকাশের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা দীপা স্বর্ণকারের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল বলে অভিযোগ।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি মদ্যপ অবস্থায় জিতেন্দ্র স্ত্রীকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করেন। স্ত্রীর একটি বড় ছবি প্রিন্ট করিয়ে তাতে ‘স্বর্গীয়’ শব্দটি লিখিয়ে নেন তিনি। এরপর ছবিটি নিয়ে যমুনার তীরে গিয়ে হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনে স্ত্রীর নামে পিণ্ডদান করেন। পিণ্ডদানের পর ব্যবহৃত সামগ্রী নদীতে বিসর্জন দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

 

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। গোটা কর্মকাণ্ডের ভিডিও রেকর্ড করে সেটি WhatsApp Status-এ প্রকাশ করেন অভিযুক্ত। এদিকে স্বামী এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেননি দীপা। পরে স্বামীর WhatsApp Status-এ সেই ভিডিও দেখতে পেয়েই কার্যত হতবাক হয়ে যান তিনি।

 

এরপর আর দেরি না করে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন দীপা। তাঁর অভিযোগ, জীবিত থাকা সত্ত্বেও স্বামী তাঁকে মৃত ঘোষণা করে পিণ্ডদান করেছেন। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

 

অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত জিতেন্দ্র প্রকাশের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

জীবিত স্ত্রীকে ‘মৃত’ ঘোষণা করে পিণ্ডদানের মতো নজিরবিহীন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দাম্পত্য বিবাদের জেরে এমন চরম ও প্রতীকী পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল, সেটিই এখন তদন্তকারীদের কাছে অন্যতম প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *