নবান্ন অভিযানে ধুন্ধুমার গঙ্গার দুই পার
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
বিজেপির নবান্ন অভিযানকে ঘিরে ধুন্ধুমার হাওড়ায়। বাদ গেল না গঙ্গার এপারে কলকাতাও। নবান্ন অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গঙ্গার দুই পার। নবান্নমুখী বিজেপির মিছিল ব্যারিকেড করে আটকানো থেকে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ধস্তাধস্তি, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বোতল ছোঁড়া, পুলিশের জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো, লাঠিচার্জ, পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ এদিন নাটকের সব উপাদানই ছিল মজুত। বিজেপির কর্মসূচি ভাঙতে মরিয়া ছিল পুলিশ। পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে রাস্তায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। ছিল কমব্যাট ফোর্স। ফলে মঙ্গলবারের নবান্ন অভিযান ও পুলিশের বাধা দেওয়ার ফলে চূড়ান্ত জঙ্গি আন্দোলনের সাক্ষী থাকল হাওড়া ও কলকাতা। বিজেপির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অধিকার ভেঙে দিতে চেয়েছে রাজ্য সরকার।

চলতি সময় স্কুল শিক্ষা দুর্নীতি, গরু পাচার, কয়লা পাচার, বালি পাচার প্রভৃতি ইসুতে বেশ কিছুটা ব্যাকফুটে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়গুলিকে সামনে রেখে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসাবে তা আন্দোলনের মাধ্যমে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ইস্যুগুলির সমর্থনে ঘোষণা মোতাবেক মঙ্গলবার রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন নবান্ন অভিযান করা হবে বলে জানানো হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। সেই অনুযায়ী আন্দোলনের ঘুঁটি সাজাতে দিল্লি থেকে আসেন সুনীল বনসালের মত কেন্দ্রীয় নেতারা। যদিও আজকের অভিযানে সুনীল বনসল উপস্থিত ছিলেন না তবুও দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী, অগ্রিমিত্রা পলের মতো রাজ্য নেতা নেত্রীদের নেতৃত্বে নবান্ন চলো কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকেও মিছিল শুরু হয় হাওড়ার দিকে।

হাওড়ার সাঁতরাগাছি থেকে একটি মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে তাকে আটকে দেয় পুলিশ। হাওড়া ময়দান থেকে একটি মিছিল নিয়ে নবান্নর দিকে যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এর পাশাপাশি কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে একটি বড়ো মিছিল নিয়ে নবান্নের দিকে যান বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কার্যত ত্রিমুখী মিছিল আটকাতে হিমশিম খায় পুলিশ। সাঁতরাগাছিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে দেওয়ায় পুলিশের সঙ্গে খন্ড যুদ্ধ বাদে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি করেন বিজেপি সমর্থকেরা। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। পুলিশ ও বিজেপির খন্ড যুদ্ধে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সাঁতরাগাছি এলাকা। এর পাশাপাশি হাওড়া ময়দান থেকে সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে মিছিলটি নবান্নের আগেই আটকে দেয় পুলিশ। উত্তেজিত বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে পালা করে দুটি জল কামান ব্যবহার করে পুলিশ। অন্যদিকে কলকাতা থেকে মিছিল চালু করার সময় কলেজ স্ট্রিটে, কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারের সামনে ধুন্ধুমার কান্ড বেধে যায় পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। ইটের ঘায়ে আহত হয় পুলিশও। অন্যদিকে পুলিশের লাঠি চার্জে আহত হন বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। বাধা পেয়ে রাস্তার ওপরে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান সুকান্ত মজুমদার, অগ্নিমিত্রা পল সহ নেতা নেত্রীরা। পরে পুলিশ তাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। নেতারা অভিযোগ করেন, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজ্য সরকার শাসন করার অধিকার হারিয়েছে। শান্তিপূর্ণ মিছিলের গণতান্ত্রিক অধিকার ভেঙে দিতে চেয়েছে পুলিশকে দিয়ে। আগামী দিনে আরোও বড়ো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বিজেপি নেতারা।
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
