‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনার উদ্বোধনে কি বললেন মোদি! কারা সুবিধা পাবেন এই প্রকল্পের? কি কি সুবিধা পাবেন!!

Views: 223
0 0

‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনার উদ্বোধনে কি বললেন মোদি! কারা সুবিধা পাবেন এই প্রকল্পের? কি কি সুবিধা পাবেন!!

 

দিব্যেন্দু দাস ,রঙ নিউজ

 

 

ছোট ছোট কাজ করে তারা সমাজ ব্যবস্থার মূল ভিত শক্ত করে রেখেছেন, যারা রোজ বিশ্বকর্মা হয়ে বিশ্বের সকল কারুকার্য, সৃষ্টি তে নিজেদের উজাড় করে জীবন যাপন করেন দরিদ্রতার মধ্য দিয়ে, যাদের দিন চলে দিনের রোজকারে, অথচ প্রাপ্য সম্মান টুকু পান না, তাদের জন্য সেই সব প্রান্তিক হস্ত শিল্পী দের জন্য , বলা ভালো সেই সব পূজনীয় জীবন্ত বিশ্বকর্মা দের জন্য বর্তমান ভারত সরকার উদ্বোধন করলো ‘পি এম বিশ্বকর্মা ’ যোজনা।

ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সমর্থন, সম্মান দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই প্রয়াস নির্দ্বিধায় প্রশংসনীয়। এই যোজনার লক্ষ্য শুধুমাত্র কারিগর এবং কারিগরদের আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য নয় বরং স্থানীয় পণ্য, শিল্প এবং কারুশিল্পের মাধ্যমে প্রাচীন ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যকে জীবিত এবং সমৃদ্ধ রাখার পাশাপাশি আত্ম নির্ভর ভারতের জন্য যুবশক্তি কে সঠিক প্রশিক্ষন প্রদান।

Photo credit – pib India

জীবন্ত কারিগর, বিশ্বকর্মাদের আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষিত,ও সচ্ছল করে তুলতে ₹১৩০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার।

 

কিভাবে সুবিধা পাবেন বিশ্বকর্মা গণ?

 

এই প্রকল্পের অধীনে, বিশ্বকর্মাদের বায়োমেট্রিক-ভিত্তিক পিএম বিশ্বকর্মা পোর্টাল ব্যবহার করে কমন সার্ভিসেস সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে নিবন্ধিত করা হবে।

তাদের PM বিশ্বকর্মা শংসাপত্র এবং আইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে।

মৌলিক এবং উন্নত প্রশিক্ষণের সাথে দক্ষতার আপগ্রেডেশন, ₹১৫০০০/- টাকার টুলকিট ইনসেনটিভ,

₹১ লাখ (প্রথম ধাপ) এবং ₹২ লাখ (দ্বিতীয় ধাপ) পর্যন্ত জামানত-মুক্ত ক্রেডিট সহায়তা অর্থাৎ গ্যারেন্টি ছাড়াই লোন প্রদান করা হবে মাত্র ৫% সুদের হারে।

ডিজিটাল লেনদেনের জন্য উৎসাহিত করা এবং বিপণন সহায়তা করা হবে।

 

 

এই স্কিমটির লক্ষ্য:-

 

এই স্কিমটির লক্ষ্য হল গুরু-শিষ্য পরম্পরা বা পরিবার-ভিত্তিক ঐতিহ্যগত দক্ষতার অনুশীলনকে শক্তিশালী ও লালন করা যা বিশ্বকর্মারা তাদের হাত এবং সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। পিএম বিশ্বকর্মার প্রধান লক্ষ্য হল গুণমানের পাশাপাশি কারিগর এবং কারিগরদের পণ্য ও পরিষেবার উন্নতি করা এবং নিশ্চিত করা যে তারা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মূল্যদরে পন্যদ্রব্য বিক্রয় করে যথোপযুক্ত সাম্মানিক পান।

 

কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন:-

 

এই প্রকল্পটি সারা ভারত জুড়ে গ্রামীণ এবং শহুরে অঞ্চলের কারিগর এবং কারিগরদের সহায়তা প্রদান করবে। আঠারোটি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মার অধীনে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে (১) ছুতার; (২) নৌকা প্রস্তুতকারক; (৩) আর্মারার; (৪) কামার; (৫) হাতুড়ি এবং টুল কিট মেকার; (৬) লকস্মিথ; (৭) স্বর্ণকার; (৮) কুমোর; (৯) ভাস্কর, পাথর ভাঙা; (১০) মুচি (জুতা/জুতা কারিগর); (১১) মেসন (রাজমিস্ত্রী); (১২) ঝুড়ি/মাদুর/ঝাড়ু মেকার/কয়ার ওয়েভার; (১৩) পুতুল ও খেলনা প্রস্তুতকারক (ঐতিহ্যগত); (১৪) নাপিত; (১৫) মালা প্রস্তুতকারক; (১৬) ধোবী( ওয়াশার ম্যান); (১৭) দর্জি; এবং (১৮) ফিশিং নেট মেকার।

 

কোথায় আবেদন করবেন:-

ভারত সরকার এর প্রদত্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে- https://pmvishwakarma.gov.in/https://pmvishwakarma.gov.in/ অনলাইন আবেদন।

 

কী কী তথ্য লাগবে অনলাইন আবেদনের সময়:-

১। আধার কার্ড

২। ভোটার কার্ড

৩ । ইনকাম সার্টিফিকেট

৪ । কাজে জড়িত থাকার প্রমাণ পত্র

৫ । মোবাইল নাম্বার

৬ । ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর

৭ । জাতিগত শংসাপত্র ( প্রয়োজনে)

 

 

“সরকার বিশ্বকর্মাদের সম্মান বাড়াতে, সক্ষমতা বাড়াতে এবং সমৃদ্ধি বাড়াতে অংশীদার হিসাবে এগিয়ে এসেছে”, শ্রী মোদী মন্তব্য করেছেন। কারিগর ও কারিগরদের ১৮টি ফোকাস ক্ষেত্রগুলির উপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী জানান যে ছুতোর, কামার, স্বর্ণকার, ভাস্কর, কুমোর, মুচি, দর্জি, রাজমিস্ত্রি, হেয়ারড্রেসার, ধোপা ইত্যাদিকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ব্যয় হবে ₹১৩০০০ কোটি টাকা।

 

বিদেশ সফরে কারিগরদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী হাতে তৈরি পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের কাজ ছোট প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়। ‘এই আউটসোর্স করা কাজটি আমাদের বিশ্বকর্মা বন্ধুদের কাছে আসা উচিত এবং তারা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনের অংশ হয়ে উঠেছে, আমরা এটির জন্য কাজ করছি। এই কারণেই এই প্রকল্পটি বিশ্বকর্মা বন্ধুদের আধুনিক যুগে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা”, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।

 

“এই পরিবর্তিত সময়ে, বিশ্বকর্মা বন্ধুদের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি এবং সরঞ্জামগুলি গুরুত্বপূর্ণ”, প্রধানমন্ত্রী দক্ষ কারিগর এবং পেশাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিশদভাবে বলেন। তিনি জানান যে প্রশিক্ষণের সময় বিশ্বকর্মা বন্ধুদের প্রতিদিন ₹৫০০/- টাকা ভাতা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন যে একটি আধুনিক টুলকিটের জন্য ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি টুলকিট ভাউচারও দেওয়া হবে এবং সরকার পণ্যের ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং বিপণনে সহায়তা করবে। তিনি বলেছিলেন যে টুলকিটগুলি শুধুমাত্র জিএসটি নিবন্ধিত দোকান থেকে কেনা হবে এবং এই সরঞ্জামগুলি ভারতে তৈরি হওয়া উচিত।

 

বিশ্বকর্মাদের জন্য জামানত-মুক্ত অর্থায়নের বিধানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন গ্যারান্টি চাওয়া হয়, সেই গ্যারান্টি মোদি দেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে বিশ্বকর্মা বন্ধুরা খুব কম সুদে কোনও জামানত না চাওয়া ছাড়াই ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

নিঃসন্দেহে বিশ্বকর্মা পূজার দিনে এমন লাভজনক, সম্মান জনক প্রকল্পের উদ্বোধনে আপামর হস্ত ও কারিগরি শিল্পী বন্ধুরা যথেষ্টই খুশি। আত্মনির্ভরশীল ভারত গঠনের দিকে আরো একধাপ এগিয়ে তাঁরা।

Photo credit – PIBindia

 

 

 

 

 

 

Sub Editor – Ramananda Das, Prateek Chaterjee

Manager – Bubun Maity

Editor – Dibyendu Das

Co Editor-Anuradha Bhattacharya

Editor in chief – Rakesh Sharma

Happy
Happy
0
Sad
Sad
0
Excited
Excited
0
Sleepy
Sleepy
0
Angry
Angry
0
Surprise
Surprise
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *