“অমর প্রেম”:লাভারস অফ ভালদারো
অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়:রঙ নিউজ
না! এ কোন রাজেশ খান্না -শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত বলিউডি সিনেমার গল্প নয়।এ কাহিনী আজ থেকে ৬০০০বছর আগেকার কথা।’লাভার্স অফ ভালদারো’।প্রেম শাশ্বত চিরন্তন।আর এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিস্মৃত প্রায় ইতিহাস। বেঁচে থেকে নয় মরে গিয়েই প্রায় ৬হাজার বছর ধরে একে অপরকে আলিঙ্গন করে রেখেছে এই তরুণ-তরুণী।তাও আবার সারা বিশ্বের লোক চক্ষুর অন্তরালে। আলিঙ্গনরত অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।যাকে বলা যেতে পারে ‘অন্তিম আলিঙ্গনে’। কিন্তু পৃথিবীর কোন শক্তিই তাদের পৃথক করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা সমস্ত ঘটনাকে একপ্রকার নস্যাৎ করে দিয়েই মাটির সঙ্গে মিশে রয়েছে তারা।এতদিনেও একটুও বদলায়নি তাদের অবস্থান। রোমিও-জুলিয়েট,হীররান্জ প্রেমের উপাখ্যানের সঙ্গে এরাও তৈরি করে নিয়েছে নিজেদের পরিচিতি।এরা কেউই জীবিত নন।রক্ত-মাংস মিশে গিয়েছে মাটির সঙ্গে।পড়ে রয়েছে হাড়। কালের নিয়মে তাও জরা-জীর্ণ।”লাভারস অফ ভালদারো”।
এই নামেই লোকে চেনেন তাঁদের।এদের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৬০০০ বছরের ইতিহাস। ২০০৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা উত্তর ইতালির মান্তুয়া গ্ৰামে সাক্ষী হয় এই ঘটনার।এক ব্যাবসায়ী বাড়ির পাশে ফেলে রাখা জায়গায় খনন কার্য চালান।সেই সময় মাটির তলা থেকে পাওয়া যায় দুটি কঙ্কাল। কিন্তু মাটির নিচে মিশে যাওয়া অন্যান্য কঙ্কালের মত নয়। সবাই আশ্চর্য হয়ে আবিষ্কার করে , কঙ্কাল দুটি একে অপরকে ঠিক মুখোমুখি অবস্থায় আলিঙ্গনাবদ্ধ।সব কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছেন ওই কঙ্কাল দুটি ৫০০০-৪০০০ খৃষ্টপূর্বাব্দের।প্রায় ,৬০০০ বছরের পুরনো।তারা জানিয়েছেন,এই ভাবেই হয়ত তাদের কবর দেওয়া হয়েছিল। কিংবা মাটির নীচে চাপা। পড়ে মারা গিয়েছিল।
ইতালির মান্তুয়া গ্ৰামটির ঐতিহাসিক এক ভূমিকা রয়েছে।বলা হয় রোমিও-জুলিয়েট উপাখ্যানে রোমিওকে এই মান্তুয়াতেই নির্বাসন দেওয়া হয়। ৬০০০ বছর পরে তারই প্রতিধ্বনি “লাভারস অফ ভালদারো” –এক অমর প্রেমের কাহিনী।বর্তমানে তাদের নতুন ঠিকানা ইতালির মাঁতুয়া “ন্যাশনাল আর্কিওলজিকাল মিউজিয়াম”। এ যেন প্রেম যুগে যুগে।।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
