*আরজি কর ও কুমোরটুলি*
তমাল মুখার্জী, রঙ নিউজ
প্রতি বছর এইসময় কলকাতার কুমোরটুলিতে বেশ ভিড় দেখা যায়। কেউ কেউ আসেন বিভিন্ন ভাবে প্রতিমা তৈরির কাজের ফোটো তুলতে,আবার কেউ আসেন আধা তৈরি প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে বা তাকে ব্যাক গ্রাউন্ড করে বিভিন্ন ভাবে নিজের ছবি তুলতে। আবার কেউ আসেন ঠাকুর বায়না করতে অথবা পূর্বের বায়না করা ঠাকুর কতটা তৈরি হলো দেখার সেই কৌতুহলে।
কিন্তু এবছর কুমোরটুলির চিত্র একটু বদলে গেছে। মৃৎ শিল্পীরা হয়তো ব্যস্ত আছেন বায়না করা প্রতিমা তৈরি করতে । কিন্তু তাঁদের চোখেও এই শুনশান কুমোরটুলির ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়েছে। একটা সময় প্রতিমা তৈরির ঘরে যাকে স্টুডিও বলা হয় , তার প্রবেশ দ্বারে “বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ” বলে কাগজ টাঙাতে হতো আর আজ….
কেন এই ছবি?
ওখানকার শিল্পী মহলের বা স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন আর জি কর হাসপাতালের চিকিৎসক মৃত্যু ও সেই ঘটনার ন্যায় বিচারের দাবিতে এই গণ আন্দোলনের জোরেই কলকাতা উত্তপ্ত। প্রায় প্রতিদিনই মিছিল হচ্ছে কল্লোলিনী কলকাতায়। সেই কারণেই সপ্তাহের মাঝে বা সপ্তাহান্তে লোকসমাগম এত কম।
কয়েকজনের মতে মানুষের মনে আনন্দ করার উৎসাহ চলে গেছে এই ঘটনায়। প্রতিমা তৈরির কারিগররা জানালেন আষাঢ় মাসে বায়না করা ঠাকুর প্রতিমাই এখন তৈরি হচ্ছে । আগস্ট মাসে নতুন করে কোনো ঠাকুর বায়না হয়নি বললেই চলে।
আর জি কর হাসপাতালের এই ঘটনার পরে অনেক পূজা কমিটি পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাই এই কুমোরটুলির সব শিল্পী ও আজ ভীত… তাঁদের মনে সেই করোনার বছরের ছবি উঁকি মারছে।
তবে বাঙালির এই দূর্গা পূজা বা তার পূর্বে গণেশ পূজা ও বিশ্বকর্মা পূজার সাথে লক্ষ লক্ষ পরিবারের রুটি রুজি জড়িয়ে। ওনাদের সাথে আমরাও চাই এই শুনশান পরিস্থিতির পরিবর্তন। তাই বিশেষ বাহুল্য না করে নমো নমো করেও যদি এই পূজা করা যায় তবে অনেক পরিবার উপকৃত হবে। কারণ এই পূজার সাথে অনেক আনুষাঙ্গিক ব্যবসাই জড়িয়ে।
মৃত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ও গণ আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে , আসুন কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায় তার সূত্র খুঁজি আমরা ।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
