শঙ্কর কন্যা নর্মদা
✍️সোমনাথ মুখোপাধ্যায়
ধ্যানে বসেছেন এক কঠোরতপা মহাযোগী। তুষারশুভ্র গাত্রবর্ণ। পিঙ্গল বর্ণের আভূমি জটাজুট। কপালে ত্রিপুন্ডক। পাশেই ভূমিতে প্রোথিত ডম্বরু ও বিষাণ সহ বিরাটাকার ত্রিশুল। একাগ্রচিত্তে ধ্যানে নিবিষ্ট সেই মহাতপা। সহসা ধ্যান ভঙ্গ হলো তাঁর। কী দেখছেন তিনি! তাঁর অঙ্কে উপবেশন করে আছে পরমাসুন্দরী সর্বসুলক্ষণা এক কন্যা। সেও ধ্যানস্থ। কে এই কন্যা? কোথা থেকে এল সে? তাঁর কোলেই বা বসে কেন? একরাশ প্রশ্ন যোগীপুরুষের।
কে তুমি মা আমার কোলে বসে? আমি আপনারই কন্যা পিতা। মধুর স্বরে উত্তর দেয় সেই কন্যা। আমার কন্যা! কিন্তু আমার ঔরসে তো কোনোও কন্যার জন্ম হয়নি! হয়েছে পিতা। আপনার স্নেহ থেকে আমার জন্ম। আমার নাম নর্মদা। বেশ তো। তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়। তুমি হলে চিরতপস্বীনি। তুমি চিরপবিত্রা। সৃষ্টি যতদিন থাকবে তোমার মাহাত্ম্য থাকবে। কলিযুগে পাপহারীণি গঙ্গার মাহাত্ম্য থাকবে না। কিন্তু তোমার থাকবে। গঙ্গায় স্নান করলে যে পূণ্যার্জন হয় তোমাকে দর্শন করলেই ভক্তরা সেই পূণ্যার্জন করবে। তোমার নাম উচ্চারণেই মিলবে মুক্তি।

হর হর নর্মদে ধ্বনিতে বয়ে চলেছেন শঙ্কর কন্যা নর্মদা। মধ্যপ্রদেশের অমর কন্টকের নর্মদা উদগম্ থেকে সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্বতের উপত্যকার মধ্যে দিয়ে গুজরাটের ভৃগুকচ্ছে এসে মিলছে আরব সাগরে। নর্মদার পবিত্র বারিধারায় মেলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক শিবলিঙ্গ। নর্মদা উদগম্ থেকে তার তটের প্রতিটি নুড়ি, পাথর এমনকি কাঁকর পর্যন্ত স্বয়ং শিব! তাই তো বলা হয় ‘হর কঙ্কর শঙ্কর’! নর্মদার তীরবর্তী দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ ওঙ্কারেশ্বর, ভীমাশঙ্কর পুজিত হন নর্মদার পবিত্র বারিধারায়। অমর কন্টকে নর্মদা মায়ের মন্দিরের ঠিক বিপরীতে অবস্থান করছেন নর্মদেশ্বর শিব। হাসিমুখে, অপার স্নেহপূর্ণ নয়নে চেয়ে রয়েছেন কন্যা নর্মদার দিকে।
হর হর মহাদেব। হর হর নর্মদে।

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
