সিদ্ধিদাতার কৃপালাভ গণেশ চতুর্থীতে
✍🏾সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
সিদ্ধিদাতার কৃপালাভ সম্ভব গণেশ চতুর্থীতে। শাস্ত্রজ্ঞ পন্ডিতদের মতে, গণেশ চতুর্থীর দিন ভক্তি সহকারে গণেশের পুজো করলে সিদ্ধিলাভ হবে সব ক্ষেত্রেই। সম্পদহীনকে সম্পদ, সন্তানহীনকে সন্তান সুখ, দুর্বলকে শক্তি, মুমুক্ষুকে মোক্ষ সবই দিতে পারেন মহাপরাক্রমশালী, শৌর্য বীর্যের প্রতীক পার্বতী পুত্র গণপতি। সকল অজ্ঞান নাশকারী, সকল বাধা দূর করে ভক্তের কার্যসিদ্ধি করেন ভক্ত বাঞ্ছা কল্পতরু গণেশ।
এখন কথা হলো, গণেশের জন্ম কবে? কী বা তাঁর রূপের তাৎপর্য? পুরাণের কথায় বিস্তর পাঠান্তর ও মতান্তর থাকলেও সাধারণত ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের চতুর্থী তিথিতে গণেশের জন্ম বলে মনে করা হয়। কোথাও আবার মাঘ মাসকে গণেশের জন্ম হিসাবে ধরে নেওয়া হয়। গণেশের গজের মতো মুখ জ্ঞান ও বুদ্ধির প্রতীক। বড়ো বড়ো কান অর্থে তিনি মনোযোগী স্রোতা। ভক্তের আকুল আহ্বান মন দিয়ে শোনেন। মুখটি ছোট্ট অর্থাৎ তিনি সংযমী। ছোটো ছোটো চোখ একাগ্রতার প্রতীক। আর এর সব গুণাবলীই তো মানুষকে কর্মনিষ্ঠ করে! এরপর অস্ত্র। সাধারণত বাংলায় দেখা যায় যে গণেশ নারায়ণের মতোই শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মধারী। অন্যদিকে মহারাষ্ট্র বা অন্যান্য রাজ্যে পাশ, অঙ্কুশ বা কুঠার, মোদক ও অভয় মুদ্রা রূপী গণেশ দেখা যায়। কোথাও আবার জপমালা, পুস্তক, লেখনীধারী গণেশের দেখা মেলে। অঙ্কুশ বা কুঠার দিয়ে মানুষের অহঙ্কারে আঘাত হানছেন গণেশ। হাতের সুমিষ্ট মোদক সাধনার ফল। বাহন মূষিক বা ইঁদুর ধর্মের প্রতীক। কোনোও পুরাণে গণেশের বাহন ময়ূর। তাই তাঁর অপর নাম ময়ূরেশ।
গণেশের রূপ, গুণের মহিমা বড়ো মধুর ও অপার। গণ+ঈশ অর্থাৎ মঙ্গলমূর্তি গণেশ একদিকে যেমন জনসাধারণের ঈশ্বর অন্যদিকে গণ বা শিবের সেবক প্রমথদের নেতৃত্ব দেন মহাকায় গণেশ। এছাড়া দ্বাদশ আদিত্য, অষ্ট বসু, ঊনপঞ্চাশ বায়ুর দেবতাও তিনি। রজোগুণের আধার লোহিত বর্ণ দেহের গণেশের গজ বা হাতির মুখ। তাই তিনি গজানন। তিনি সমষ্টির একছত্র নায়ক বিশেষ। তাই তিনি বিনায়ক। পরশুরামের কুঠার দাঁতে ধারণ করার ফলে একটি দাঁত ভেঙে যায় গণেশের। তাই তিনি একদন্ত। গণেশের শুঁড় যদি বামাবর্ত বা বামদিকে থাকে তবে তিনি বিনায়ক। আর দক্ষিণাবর্ত শুঁড় সিদ্ধিবিনায়কের রূপ। এছাড়াও গণাধিপ, পশুপাল, বিঘ্নরাজ, চারুকর্ম, হেরম্ব, দ্বৈমাতুর, চিন্তামণি প্রভৃতি নামে ডাকা হয় তাঁকে।
কীভাবে পুজো করলে মিলবে অভীষ্ট ফল? ধন সম্পদের দেবতা হিসাবে দেবতা গণেশের মান্যতা বরাবরই। ধর্ম, অর্থ, মান, যশ, মোক্ষ লাভ, প্রায় সর্বক্ষেত্রেই শিবনন্দন গণেশের মহিমা অপার। জ্যোতিষী পন্ডিতদের মতে, এ বছর ফুল, ফল, দুর্বা, ধূপ, দীপ সহযোগে গণেশের পুজো করলে সিদ্ধিলাভের পাশাপাশি সার্বিক মঙ্গল হবে ভক্তের। তিনি যে মঙ্গলময় মঙ্গলমূর্তি। পন্ডিতরা আরও জানাচ্ছেন, লাল ফুল যেমন জবা, গোলাপ গণেশের প্রিয়। এছাড়াও দুর্বার মালাও বিশেষ পছন্দ করেন গণপতি। তাঁর ভীষণ প্রিয় যে কোনোও সুমিষ্ট পাকা ফল। এছাড়া মিষ্টান্নের মধ্যে লাড্ডু ও মোদক গণেশের সর্বাপেক্ষা প্রিয়। নিবেদন করা যেতে পারে সুজির হালুয়া, ক্ষীর। এর সঙ্গে পীতবর্ণের বস্ত্র বা হলুদ কাপড়, সুগন্ধি ধূপ, ধূনো, কর্পূর, পঞ্চ প্রদীপে আরতি করে পুজো করলে তুষ্ট হন দুঃখহর্তা, বিঘ্ননাশক মূষিকবাহন গণেশ।
“একদন্ত মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং, বিঘ্ননাশনং পরম্ দেবং হেরম্বম্ প্রণমামহ্যম্”।

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
