পরিবর্তনের পরাকাষ্ঠা পশ্চিমবঙ্গে!
✍🏾সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
কিছুদিন আগে তাঁর লন্ডন সফরে গিয়ে সফরসঙ্গীদের নিয়ে পিছু হেঁটে খবরের শিরোনাম দখল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সামনে না হেঁটে পিছনে হাঁটার শারীরিক উপকারিতা যে কতটা তা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে মতামত দেওয়া শুরু করে দেন ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা। তবে পিছনে হাঁটা যে আদতে রাজ্যের পিছিয়ে পড়াকে ইঙ্গিত করে সে বিষয়ে কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি বিরোধীরা। তবে পিছনে হাঁটা বিষয়টি যে যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী তা দেখিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী।
কী দেখতে হচ্ছে রাজ্যবাসীকে? আর জি কর কান্ডের দগদগে ক্ষত মিটতে না মিটতেই শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে তোলপাড় গোটা রাজ্য। আর জি কর কান্ডে অভিযোগের তির রাজ্যের শাসক দল ও তাদের ঘনিষ্ঠদের দিকে। অন্যদিকে শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতিতে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে জেলবন্দি রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। সেই মামলা এখনো চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গোটা প্যানেল বাতিল হয়ে ২৬০০০ শিক্ষকরা চাকরি হারিয়ে পথে বসেছেন। ওএমআর সিট, মিরর ইমেজ শব্দগুলি ঘুরপাক খাচ্ছে বাতাসে।
ডি আই অফিসে স্মারকলিপি পেশ করতে গিয়ে দলদাস পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ, বুটের লাথির মুখে পড়ছেন শিক্ষকরা। এখানেও অভিযোগের তির রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তাঁর দলের দিকে। ঘটনার প্রতিবাদে মিটিং, মিছিল, অনশন শুরু করছেন রাতারাতি চাকরি হারানো শিক্ষকরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ মিছিল করছে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি। পিছিয়ে নেই সিপিআইএম। জোরদার আন্দোলনের পথে নেমেছে বামেরা। প্রতিবাদে মুখর হয়েছে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর দেওয়া অন্তঃসারশূন্য ভরসায় চিঁড়ে ভিজছে না। তাঁরা দায় স্বীকার করার বদলে রাম বামের তত্ত্ব খাড়া করে দোষ চাপাতে ব্যস্ত। এহেন অবস্থায় নিট্ ফল শূন্য। শিক্ষকদের অভাবে শিকেয় উঠেছে পঠনপাঠন। অসংখ্য ছাত্রছাত্রীরা দিশাহারা। কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে স্কুলগুলি। অভিভাবকরা অসহায়।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনকে হটিয়ে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনেন রাজ্যের মানুষ। স্লোগান ছিল পরিবর্তনের। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলী যে সবদিক থেকেই পশ্চিমবঙ্গের পিছনে হাঁটার পরিবর্তনের পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে সে বিষয়ে কোনোও সন্দেহ নেই। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম এখন ইতিহাস। না হলো শিল্প, না হলো চাষ। এদিকে বামফ্রন্ট তাড়াতে গিয়ে ‘আম গেল ছালাও গেল’ বলে আড়ালে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী বছর বছর বিজনেস সামিট করেন। শিল্প আনতে বিদেশ যান। লেজুড় হিসাবে সঙ্গে যান কিছু বিশেষ সুবিধাভোগী রাজনৈতিক তল্পিবাহক প্রাক্তন খেলোয়াড়, কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিল্পীরা। জনগণের করের টাকা দেদার খরচ হয়। শেষ পর্যন্ত হাতে থাকে পেন্সিল! মেঠো বক্তৃতা এমনকি প্রশাসনিক বৈঠকেও সেই চপ, মুড়ি, ঘুগনির গল্প শুনে মাথা নাড়েন আইএএস, বিসিএস আমলারা! আর মাথা নাড়ে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মী ভান্ডার, বার্ধক্য ভাতাজীবি জনতা জনার্দন। শিল্পহীন, শিক্ষাহীন, দিশাহীন রাজ্য পড়ে থাকে সেই তিমিরেই। এই পরিবর্তন কি চেয়েছিলেন রাজ্যের মানুষ? প্রশ্নটা থাকল!
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
