অক্ষয় ফল লাভ অক্ষয় তৃতীয়ায়

Views: 102
2 0

অক্ষয় ফল লাভ অক্ষয় তৃতীয়ায়

 

✍🏾 সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

অক্ষয় পূণ্যের ধারক অক্ষয় তৃতীয়া। অক্ষয় অর্থাৎ যার ক্ষয় নেই। বিশ্বাস যে এই তিথিতে জাগতিক যা কিছু করণীয় তার ফল হবে অক্ষয়। বিশ্বাস যে এই তিথিতে যা কিছু দান করা হয় তা চতুর্গুণ হয়ে দাতার কাছেই ফিরে আসে। তাই তিথি হিসাবে অক্ষয় তৃতীয়ার মহিমা অসীম। সারা বছরের মধ্যে সবথেকে শ্রেষ্ঠ ও পূণ্যময় দিন হিসাবে আদরণীয় অক্ষয় তৃতীয়া। যা কিছু শুভ, কল্যাণময়, শান্তিপ্রদ ও সুখপ্রদ তা লাভ করা যেতে পারে অক্ষয় তৃতীয়ায়। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু বা নারায়ণের সঙ্গে সিদ্ধিদাতা গণেশ ও সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। পুজোপাঠের পাশাপাশি শান্তি স্বস্তয়ণ, কৃষিকাজ, গৃহারম্ভ, নতুন ব্যবসা শুরু, দান ধ্যান প্রভৃতির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন মানুষ।

 

বৈশাখের শুক্লপক্ষের তৃতীয়ায় পালন করা হয় অক্ষয় তৃতীয়া। বলা হয় যে এই দিনে কোনোও কিছু দানের মাহাত্ম্য অসীম। নিত্য, নৈমিত্তিক, কাম্য ও বিমল এই চার প্রকার দানের কথা বলা হয়েছে পদ্ম পুরাণে। অন্ন দান, অর্থ দান, বিদ্যা দান প্রভৃতি যে কোনও দান সমাদৃত। অন্যদিকে ভবিষ্য পুরাণের কথায়, এই তিথিতে তৃষ্ণার্তকে জল দান সবথেকে শ্রেষ্ঠ ও মহৎ দান। মানুষের পাশাপাশি মনুষ্যেতর প্রাণীদের জল দান করলে তার ফল হবে অক্ষয়। ভাগবতের দশম স্কন্ধ অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়ায় প্রাণ, অর্থ, বুদ্ধি ও বাক্য দ্বারা পরের হিতসাধনের কথা বলে গিয়েছেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, ৪৮ দিন নির্জলা উপবাস ব্রতের পর ব্রত ভঙ্গের দিনে মানুষকে অতুল সম্পদ দান করার পর শেষে নিজের অন্নটুকু ভিক্ষুককে দানের পর বেঁচে থাকা এক পাত্র জলটুকুও দান করতে গিয়ে চতুর্ভুজ নারায়ণের দেখা পান রাজা রন্তিদেব। দিনটি ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। নারায়ণের কৃপায় জীবনের অন্তে বৈকুন্ঠলোকে স্থান হয় রন্তিদেবের।

এ তো গেলো অক্ষয় তৃতীয়ায় দানের কথা। এবার চোখ রাখতে হবে দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে। অক্ষয় তৃতীয়ায় সূচনা হয়েছিল পুরুষোত্তম মর্যাদাপুরুষ শ্রীরামচন্দ্রের পদধূলিধন্য ত্রেতা যুগের। অক্ষয় তৃতীয়ায় জন্ম গ্রহণ করেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার শস্ত্রধারী মহাতেজা ব্রাহ্মণ পরশুরাম। তাই এই দিনটি পরশুরাম জয়ন্তী হিসাবেও পালন করা হয়ে থাকে। অক্ষয় তৃতীয়ায় অতুল ধনসম্পদ লাভ করেন যক্ষপতি কুবের। তাই এই দিনে বৈভব লক্ষ্মীর আরাধনাও করা হয়। এই দিনেই মর্তে গঙ্গাকে অবতরণ করিয়েছিলেন ভগীরথ। অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্য তিথিতে মহাভারত রচনা শুরু করেন মহামতি কৃষ্ণদ্বৈপায়ণ বেদব্যাস। দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর কেদারনাথ, বদরিনারায়ণ, গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী মন্দিরের দরজা খোলা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়। দরজা খুললে দেখা যায় তখনও জ্বলছে ছয় মাস আগে জ্বালিয়ে রেখে যাওয়া অক্ষয় প্রদীপ। অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু হয় শ্রীক্ষেত্রে জগন্নাথ মহাপ্রভুর রথ নির্মাণের কাজ। আবার এই দিনেই হয় শ্রীকৃষ্ণের চন্দনযাত্রা।

বস্তুত আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষের সনাতনী দর্শন ও বিশ্বাস যে ভগবৎ ভক্তির সঙ্গে শুদ্ধসত্ত্ব মনে, সাত্ত্বিক গুণ লাভের চেষ্টার পাশাপাশি সত্যনিষ্ঠ ও মানব কল্যাণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা। তার শুরুটা হোক শুভ অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী

ম্যানেজার – বুবুন মাইতি

এডিটর – দিব্যেন্দু দাস

এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা

Happy
Happy
4
Sad
Sad
0
Excited
Excited
0
Sleepy
Sleepy
0
Angry
Angry
0
Surprise
Surprise
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *