*আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার মূল কারণ নিয়ে চলছে তদন্ত আর জল্পনা*
নবনীতা পাল Rong News
আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ঘিরে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানের দুই ইঞ্জিনেই একযোগে জ্বালানি সরবরাহ আচমকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর ঠিক সেই কারণেই হয়তো ঘটেছিল মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা।
এই ঘটনায় আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে, বিশেষ করে, পাইলটদের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এই রকম একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে পাওয়া গিয়েছে দুই পাইলটের শেষ মুহূর্তের কথোপকথন। সেখানে একজন পাইলট বিস্ময়ে জিজ্ঞাসা করেন, “জ্বালানি বন্ধ করে দিলে কেন?” অপর পাইলট অবাক হয়ে জবাব দেন, “আমি কিছুই বন্ধ করিনি।”এই কথোপকথন থেকেই স্পষ্ট যে, দুই পাইলটের কারোরই ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা ছিল না। ইঞ্জিন বন্ধ হয় ‘রান’ থেকে ‘কাটঅফ’ মোডে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যখন বিমানটি রানওয়ে থেকে উপরে উঠতে শুরু করে, ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি ‘রান’ (চালু) মোড থেকে ‘কাটঅফ’ (বন্ধ) মোডে চলে যায়। এর ফলে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, এবং বিমান দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে।
যদিও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাইলটরা আবার ইঞ্জিন চালু করার চেষ্টা করেন, কিন্তু দেরি হয়ে যায়। একটি ইঞ্জিন চালু হলেও, দ্বিতীয়টি আর কাজ করেনি। ফলে প্রয়োজনীয় থ্রাস্ট না মেলায় বিমান ক্র্যাশ করে।
পাইলট সুমিত সভরওয়াল এর উড়ান অভিজ্ঞতা ছিল ৮২০০ ঘণ্টা, আর সহকারী পাইলট ক্লাইভ কুন্দর এর ছিল ১১০০ ঘণ্টা। এই অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও যদি তাঁরা ভুলবশত জ্বালানি বন্ধ করে দেন, তাহলে তা নিঃসন্দেহে অবিশ্বাস্য ঘটনা। এখানেই শুরু হয়েছে মূল প্রশ্ন—মানবিক ভুল, না কি যান্ত্রিক ত্রুটি?
প্রাথমিক তদন্তে বহুল আলোচিত পাখির ধাক্কার তত্ত্ব খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কোনও পর্যায়ে পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদ্ব্যতীত, বিমানের নির্মাতা সংস্থা বোয়িং-কে এখনো পর্যন্ত কোনও ধরনের ত্রুটির নোটিস দেওয়া হয়নি, যা থেকে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, মূল সমস্যা হয়তো যান্ত্রিক ত্রুটি বা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ফেইলিওরের মধ্যে কোথাও লুকিয়ে রয়েছে।
তদন্তে এখনও স্পষ্ট নয় চূড়ান্ত কারণ। যদিও প্রাথমিক রিপোর্টে একাধিক সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তবে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার কারণ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। তদন্ত চলছে। সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট মত প্রকাশ করা হয়নি। এখন সকলের চোখ চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্টের দিকে, যেখানে বোঝা যাবে আদতে পাইলটের ভুল, না যান্ত্রিক বিভ্রাটই ছিল ভয়ঙ্কর এই ঘটনার মূল কারণ।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
