এক অন্য ধারার খেলা–স্কোয়াস।
অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়: Rong News
স্কোয়াসের সঙ্গে সমগ্ৰ বিশ্বে হয়ে থাকে নানান ধরণের খেলা।কিন্তু এর বেশিরভাগ বিষয়েই সাধারণ মানুষের তেমন আগ্ৰহ থাকে না।মুষ্টিমেয় ক্রীড়াপ্রেমিদের সামান্য সঙ্গতি উজ্জীবিত করে এই খেলাগুলিকে।তাই দেখা যায় ফাঁকা মাঠে অল্প কিছু দর্শকের সামনে এই সব খেলার কুশীলবরা তাদের সেরাটা দেবার চেষ্টা করে।এটা যেন তাদের চ্যালেন্জ।এ রকমই একটি খেলা হচ্ছে ‘স্কোয়াস’।তবে খেলাটি বেশ প্রাচীন।আনুমানিক ১৭০০খৃষ্টাব্দে খেলাটির উদ্ভব হয় ইংল্যন্ডে অর্থাৎ তিনশ বছরের বেশি পুরনো এই খেলা।পৃথিবীর বহু দেশেই খেলাটি সেখানকার স্থানীয় মানুষের সমর্থন পেয়ে এসেছে।

বর্তমানে ১৭৫টি দেশে এই খেলা হয়।প্রথম দিকে এই খেলাটির নাম ছিল র্যাকেট বল।এশিয়ান গেমস,সাফ গেমস,কমনওয়েলথ গেমস প্রভৃতি বড় মাপের প্রতিযোগীতায় অন্তর্ভুক্ত এই খেলা।আগে এই খেলা ইওরোপে হত।কিন্ত তখন এত রমরমা ছিলনা।বিশেষ গতি সম্পন্ন খেলা বলে স্কোয়াস ইউরোপ ছেড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।এশিয়ার বিভিন্ন দেশ খেলাটি রপ্ত করে যেমন, ভারত,পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি।পাকিস্তানের জাহাঙ্গীর খাঁ বিশ্বের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে পরিচিতি লাভ করে।এছাড়া ভারতের সৌরভ ঘোষাল স্কোয়াসে সাড়া জাগানো নাম।বর্তমানে সৌরভ ঘোষাল আন্তর্জাতিক স্তরে র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম দিকে রয়েছেন।ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খেলাটি বিশেষ প্রসার লাভ করেছে যেমন;দিল্লি,মধ্যপ্রদেশ,তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি।এরকম জায়গা থেকেই বর্তমানে কলকাতা তথা ভারতের ছেলে সৌরভের উত্তরণ।আর এই কলকাতাতেই রয়েছে স্কোয়াসের একটি সুপ্রাচীন ক্লাব।যার নাম ‘ক্যালকাটা র্যাকেট ক্লাব’।সৌরভ ঘোষাল এই ক্লবের ই খেলোয়াড়। এই খেলাটি মোট এগারো পয়ন্টের খেলা।একটি কাঁচের ঘরের মধ্যে খেলা হয়। দুজন করে খেলে।একটা রবারের বল ও র্যাকেট খেলার সরন্জাম।
উল্লেখ্য এই খেলার জন্ম ইংল্যন্ডের এক জেলখানায়।কয়েদিরা সময় কাটানোর জন্য কাগজের টুকরো গোল করে পাকিয়ে একটি কাঠের ডান্ডা দিয়ে দেওয়ালে বারবার মারত।পরবর্তী কালে এই খেলা আজকের স্কোয়াসে রূপান্তরিত হয়।ভারতে এই খেলার বিশেষ ভাবে প্রচলন আছে।এই খেলার উন্নতিকল্পে গত ২০২১এর মার্চ মাস থেকে ইংল্যন্ডের প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় ডেভিড পামার ভারতের পুরুষ ও মহিলা স্কোয়াস দলকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।এতে সমৃদ্ধ হবে ভারতীয় স্কোয়াস এবং উত্থান ঘটবে আরোও অনেক সৌরভ ঘোষালের।
২৯.০৫.২২
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
