*ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিলেন UEFA কাঁপানো ফুটবলার*
নবনীতা পাল :Rong News
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে বুধবার (৫ নভেম্বর) একটি বিশাল বড় ঘোষণা করা হয়েছে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গ্রুপ পর্ব এবং ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের কথা মাথায় রেখে জাতীয় দলের ফুটবলার জ্যোতি চৌহানকে সই করানো হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের বন্যা বইতে শুরু করেছে।
জ্যোতিই প্রথম ভারতীয় ফুটবলার যিনি কোনও ইউরোপিয়ান ক্লাবের হয়ে হ্যাট-ট্রিক করেছেন। ২০২৩ সালে জেডএনকে আগরামের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ডিনামো জাগরেভের হয়ে এই রেকর্ডটি কায়েম করেন। জানা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ মরশুমের শেষ পর্যন্ত জ্যোতির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের চুক্তি হয়েছে। গত বছর ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের খেতাব জয় করেছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। এই বছরও তারা খেতাব ধরে রাখতে চায়। সেকারণেই জ্যোতিকে সই করানো হয়েছে। ৯৯ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন জ্যোতি।
মধ্য প্রদেশের সরদারপুর শহর থেকে উঠে এসেছেন জ্যোতি চৌহান। ছোটবেলায় দারিদ্রতা ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু, তার মধ্যেই তিনি পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন বুনে গিয়েছেন প্রতিনিয়ত। একাধিকবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি রাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অবশেষে তিনি কেঁকড়ে এফসি-তে যোগ দেন এবং মুম্বই উইমেন্স লিগে দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স করেন।
এরপর তিনি যোগ দিয়েছিলেন গোকুলাম কেরালা এফসিতে। ২০২১-২২ মরশুমে তিনি IWL খেতাব জিততেও সাহায্য করেন। কেরালা উইমেন্স লিগে সেরা ফুটবলারের তকমাও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ভারতীয় ফুটবল দলের হয়ে এই ফরোয়ার্ড এখনও পর্যন্ত সাতটি ম্য়াচ খেলেছেন। ২০২৪ সালে সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি প্রথম গোল করেন। ওই ম্য়াচে ভারত ৫-২ গোলে জয়লাভ করেছিল।
জ্যোতি বললেন, ‘ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবে যোগ দেওয়া আমার স্বপ্ন ছিল। এতদিনে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। যথেষ্ট ব্যস্ত সূচি রয়েছে আমাদের সামনে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গ্রুপ পর্বে এই কিংবদন্তী ক্লাবের হয়ে আমি সেরা পারফরম্য়ান্স করতে চাই। পাশাপাশি, ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে খেতাবও ধরে রাখতে চাই।’ সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘একজন ফুটবলার হিসেবে আমার যে উন্নতি হয়েছে, এর পিছনে কোচ অ্যান্থনির ভূমিকা অনস্বীকার্য। ওঁর সঙ্গে আরও একবার যুক্ত হতে পেরে খুব ভাল লাগছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন প্রাক্তন সতীর্থের সঙ্গেও দেখা হয়েছে। লাল-হলুদ সমর্থকরা যেভাবে এই ক্লাবের পাশে থাকেন, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ওঁদের গর্বিত করার জন্য আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
