দীঘাশ্রীতে শিশু সুরক্ষা দিবস উদযাপনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বার্তা
দিব্যেন্দু দাস, Rong News
পূর্ব মেদিনীপুর
পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার সুরক্ষা আয়োগের উদ্যোগে দিঘাশ্রীতে বৃহস্পতিবার পালিত হল রাজ্য শিশু সুরক্ষা দিবস। রাজ্য সরকারের ‘কন্যাশ্রী’ , কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও ’ প্রকল্পের ছায়ায় প্রদীপের তলায় অন্ধকারের মত বাল্যবিবাহ আজ মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরে দীঘায় এই মহতি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া হয়। শিক্ষার হারে এগিয়ে থাকা পূর্ব মেদিনীপুরেই বাল্যবিবাহ সর্বাধিক রেকর্ড সংখ্যক।তাই কলিকাতার পরিবর্তে পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘাতেই পালন করা হল শিশু সুরক্ষা দিবস। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী,অতিরিক্ত জেলাশাসক সাধারণ সৌভিক ভট্টাচার্য,পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহকারি সভাপতি মামুদ হোসেন সহ অন্যান্যরা।
এদিন এলাকার শিশুদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিবছর ৯ জুন দিনটি পালিত হয়। এবার আমাদের থিম অ্যান্টি চাইল্ড ম্যারেজ৷ এই জেলায় বাল্যবিবাহ সব থেকে বেশি হওয়ায় এবছর এখানে অনুষ্ঠানটি করা হল। অনুষ্ঠানের সবেতেই বাল্যবিবাহ বিরোধী বার্তা দেওয়া হয়েছে৷’’ তিনি আরোও বলেন ‘‘বাল্য বিবাহ রুখতে আমরা অবশ্যই অঙ্গীকারবদ্ধ৷ তবে শুধু সরকার বা আইন দিয়ে তো কিছু হয় না৷ সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে৷ বাবা-মায়েরা যদি বোঝেন যে, একটি মেয়ের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ কতটা ক্ষতিকর, তাহলেই এটা বন্ধ করা সম্ভব৷’’
এদিন সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এবং লোপামুদ্রা মিত্রর গাওয়া বাল্য বিবাহ বিরোধী একটি মিউজিক ভিডিয়োও রিলিজ করা হয় ৷ সচেতনতা মূলক এই জনপ্রিয় গানের ভিডিও সব জেলাতেই ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়৷বিভিন্ন জায়গায় গানটি বারবার বাজানোর জন্যও বলা হয়েছে৷অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর কর্মশালা করব আমরা৷ গরমের ছুটির পর স্কুল খুলে গেলে সমস্ত স্কুলে চলবে কর্মশালা৷ সেখানে শুধু বাল্যবিবাহই নয়, পকসো, পাচার, শিশুশ্রমিক সব নিয়ে কর্মাশালা চালু হবে৷’’ মানুষ সচেতন হলেই শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি করেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী৷ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই শিশু সুরক্ষা দিবসে শিশু অধিকার রক্ষায় সরব হন এবং আগামীতে যেকোন দৃঢ় পদক্ষেপে হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলার বার্তা দেন।
Sub Editor- Ramananda Das
Editor- Dibyendu Das
Editor in chief- Rakesh Sharma
