কলাবউ নবপত্রিকা দেবী দুর্গা

কলাবউ নবপত্রিকা দেবী দুর্গা

 

✍🏾সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

বাঙালির সম্বৎসরের সবথেকে বড়ো উৎসব দুর্গাপুজোর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত নবপত্রিকা। চলতি কথায় যা কলাবউ বলে পরিচিত। সপ্তমী তিথির সকালে গঙ্গা বা স্থানীয় জলাশয়ে কলাবউ স্নান করিয়ে, নতুন বস্ত্র পরিয়ে মহাসমারোহে মন্ডপে এনে গণেশের বামদিকে রেখে পুজো করাই রীতি। শাড়ি পরানো, ঘোমটায় মুখ ঢাকা কলাগাছকে বউ বলে ভাবা প্রকৃতপক্ষে রেওয়াজ। কিন্তু কে এই কলাবউ? দুর্গাপুজোর ঠিক আগে সেদিকেই আলোকপাত করার চেষ্টা।

 

প্রচলিত বিশ্বাস যে কলাবউ গণেশের স্ত্রী। কলাবউয়ের আসল নাম নবপত্রিকা। পত্রী অর্থে পাতা। বস্তুত নয়টি পাতাযুক্ত উদ্ভিদের সম্মিলিত রূপ নবপত্রিকা যা আদতে দেবী দুর্গার নয়টি রূপের বা নবদুর্গার আরাধনা। এবার চোখ রাখা যাক নয়টি উদ্ভিদের ওপর যা রম্ভা, কদলী বা কলা, কচু, হরিদ্রা বা হলুদ, জয়ন্তী, বিল্ব বা বেল, দাড়িম্ব বা ডালিম, অশোক, মান ও ধান। এর প্রতিটিই দেবী দুর্গার একেকটি রূপ। কলাগাছ দেবী ব্রহ্মাণী, কচু দেবী কালিকা, হলুদ দেবী উমা বা দুর্গা, জয়ন্তী দেবী কার্তিকী, বেল দেবী শিবানী, ডালিম দেবী রক্তদন্তিকা, অশোক দেবী শোকরহিতা, মান দেবী চামুন্ডা ও ধান দেবী লক্ষ্মী। প্রতিটি উদ্ভিদ কলাগাছের সঙ্গে শ্বেত অপরাজিতার লতা দিয়ে বেষ্টন করে শাড়ি পরিয়ে দেবী দুর্গার ডানদিকে রাখা হয়। স্বাভাবিকভাবেই দেবী দুর্গার ডানদিক থাকা গণেশের বামদিকে বসে নবপত্রিকা। শাস্ত্রীয় নিয়মে স্বামীর বামদিকে স্ত্রীর স্থান। ফলে নবপত্রিকাকে গণেশের স্ত্রী হিসাবে দেখা হয়। বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করলে নবপত্রিকা বা কলাবউ বস্তুত শস্য দেবী বা বৃহত্তর অর্থে সমস্ত সৃষ্টির আকর সেই পরমা প্রকৃতি দেবীর আরাধনা। তিনি জগন্মাতা। তিনিই দেবী দুর্গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *