তাজিয়া মিছিল আসলে কি ও কেন?
দেবপ্রিয়া বারিক , Rong News
(০৯/০৮/২০২২)
তাজিয়া শব্দের অর্থ কি?
আজ এই পবিত্র মহরমের দিনে যে মিছিল বের হয় তাকে তাজিয়া বলা হয়। আরবি শব্দ ‘তাজিয়া’ যা উর্দু ও ফারসি ভাষায়ও প্রচলিত। এর অর্থ হল সমবেদনা ও শোক প্রকাশ করা। আবার শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকাবেগ সঞ্চারী অনুষ্ঠানকেও তাজিয়া বলা হয়। যা ইমাম হুসেনের শাহাদত লাভের বিষাদময় স্মৃতির উদ্দেশ্যে পালিত হয়।
বাংলাতে তাজিয়া মিছিলের শুরু হল কবে থেকে?
মুগল আমলে বিশেষত ১৬৩৯-১৬৫৯ সালে শাহসুজা বাংলার সুবেদার থাকাকালীন শিয়াদের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। সম্ভবত তখন থেকেই বাংলায় তাজিয়া মিছিলের প্রচলন হয়। বাদশাহ আকবরের আমলে আগ্রা দূর্গ থেকে যে তাজিয়া বের হত তা মুগল তাজিয়া নামে পরিচিত ছিল।
তাজিয়া মিছিলের কারণ কি?
মহরম নিয়ে কিছু ঘটনা কথিত থাকলেও কারবালার যুদ্ধের ঘটনাটিই সর্বোত্তম প্রযোজ্য।
সংক্ষেপে জানব কি ছিল ঘটনাটি – দশ দিন ধরে উমাইয়া খলিফা ইয়াজাদের সেনাবাহিনী এবং হযরত মহম্মদের নাতি ইমাম হুসেনের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল।
ইমাম হুসেন যখন মক্কায় বাস করছিলেন, তখন কুফার কয়েকজন মুসলমান তাঁর কাছে চিঠি পাঠায়, যেখানে অনুরোধের সুরে বলা ছিল, সেই মুসলমানদের ইয়াজিদের শাসন থেকে উদ্ধার করতে হবে।
সেই চিঠি অনুসারে, ইমাম হুসেন কুফার দিকে অগ্রসর হন, ইয়াজিদের সেনাপতিরাও এগিয়ে আসে। কিন্তু সে সময় সেনাবাহিনীদের শক্তি, ধৈর্য্য, তাদের কারবালার প্রান্তরে চলে যেতে বাধ্য করেছিল। এরপর ইমাম মহিলা ও শিশু সহ ৭১ জন যুদ্ধ- পুরুষকে নিয়ে কুফার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। ১০ দিন ধরে কারবাল প্রান্তরে ইয়াজিদের নিষ্ঠুরতা, অত্যাচার, অন্যায় সহ্য করতে হয়েছিল তাঁদের।
সপ্তম দিনে, ইউফ্রেটিস নদীর জল ব্যবহার করাও বন্ধ করে দেয়। ইমাম হুসেন আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করেন, শেষ পর্যন্ত দশম দিনে লড়াই শুরু হয়। সেই যুদ্ধে তার ভাইয়ের মেয়ে এবং তাঁর ছয় মাসের শিশু সহ ইমাম হুসেনের সমস্ত অনুসারী শহীদ হয়েছিলেন সেখানে, এমনকি তাদের শ্রাদ্ধ শান্তি করতেও দেওয়া হয়নি পরিবারকে।
মহিলাদের এবং শিশুদের বন্দী করে দামেস্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এক বছর পরে অবশেষে জনগণের চাপে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
ইমাম হুসেনের লক্ষ্য খুবই পরিষ্কার ছিল – তাঁর এটি একার রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই ছিল না। তিনি মানুষকে অন্যায় শাসন থেকে মুক্ত করে ইসলামের সত্য পথে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। তিনি কুফায় যাওয়ার পথে নারী ও শিশুদের নিয়ে এগিয়েছিলেন, এ থেকেই বোঝা যায় যে তিনি যুদ্ধ করতে চাননি।
ইমাম হুসেন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সামনে এনে ছিলেন মহাত্মাগান্ধী, তিনি বলেছিলেন, “আমি হুসেনের কাছে থেকে শিখেছি, কীভাবে অন্যায়ের শিকার হতে হয়, কীভাবে বিজয়ী হতে হয়। কীভাবে নিপীড়িত হয়েও বিজয় অর্জন করা যায়। ”
এই ঘটনার স্মৃতিচারণ-এর মাধ্যমেই শিয়া সম্প্রদায় মুহরম মাসের প্রথম দশদিন শোকপালন করে এবং আশুরা বা দশম দিনে ইমাম হুসেনের সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে মিছিল করে। কারণ এই দিনেই তিনি শাহাদত লাভ করেন।
কথিত আছে ইসলাম ক্যালেন্ডারের প্রথম মাসকে পবিত্র মনে করা হয়। তাই মহরম থেকে শুরু হয় তাদের ইসলামিক নিউ ইয়ার।
