পথে সন্তানের জন্ম দেওয়া মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি টোটোচালকের

Views: 80
3 0

পথে সন্তানের জন্ম দেওয়া মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি টোটোচালকের

 

সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News

 

বাসে আসতে আসতে পথেই প্রসব যন্ত্রণা ওঠায় তড়িঘড়ি এক অন্তঃসত্ত্বাকে বাস থেকে নামিয়ে টোটো চালকের তৎপরতায় ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাওড়া জেলা হাসপাতালে জরুরী বিভাগে পৌঁছে দেওয়াকে কেন্দ্র করে চালকের মানবিক মুখ দেখল হাওড়া।

 

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সকালে। বাগনান থেকে হাওড়া আসছিলেন জনৈক মহিলা। তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাসে আসতে আসতেই তার প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে এগিয়ে আসেন বাসের অন্যান্য মহিলা যাত্রীরা। তারাই ওই মহিলাকে বাস থেকে নামিয়ে নেন। তারপর তাদেরই উদ্যোগে ও তৎপরতায় একটি টোটো করে যন্ত্রণায় কাতর মহিলাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া জেলা হাসপাতালে। টোটোর ভিতরে বসে প্রবল প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে সেখানেই সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে সরাসরি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভিতরে নিয়ে গিয়ে গাড়ি থামান ওই টোটো চালক। হঠাৎ করেই জরুরি বিভাগের ভিতর টোটো ঢুকে পড়ায় রীতিমতো হতবাক হয়ে পড়েন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সেরা। হতবাক চিকিৎসা করাতে আসা অন্যান্য রোগী ও তাদের পরিজনেরা। এই ঘটনায় রীতিমতো উত্তেজনা ছড়ায় জরুরি বিভাগে। শুরু হয় চিৎকার চেঁচামেচি।ততক্ষণে টোটোর মধ্যে থেকে মহিলার চিৎকার গোঙানি শুনে বিষয়টি বুঝতে দেরি হয়নি জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের। সব রকম চিকিৎসাগত ব্যবস্থা নিয়ে তড়িঘড়ি টোটোর মধ্যেই সন্তান প্রসবের বাকি সমস্ত প্রক্রিয়া সমাধা করেন তারা। ডাক্তার ও নার্সদের চেষ্টায় একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন ওই মহিলার নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। মা ও শিশু দুজনেই প্রসূতি বিভাগে ভর্তি। দুজনেই সুস্থ ও ভালো আছে। তবে অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলাকে অপারেশন থিয়েটার বা লেবার রুমে না নিয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, মহিলার যা শারীরিক অবস্থা ছিল তাতে একদমই সময় ছিল না। লেবার রুম বা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলে সংকটজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারতো। চরম ক্ষতি হতে পারত মা ও শিশুর। সংক্রমণ এড়াতে সব রকমের সতর্কতা ও ব্যবস্থা নিয়েই তার ডেলিভারি করানো হয়েছে।

 

গোটা ঘটনায় যিনি নায়ক সেই টোটো চালক প্রশংসা কুড়োচ্ছেন হাওড়াবাসীর।

 

 

 

 

 

Sub Editor- Ramananda Das

Editor- Dibyendu Das

Editor in chief- Rakesh Sharma

Happy
Happy
1
Sad
Sad
0
Excited
Excited
0
Sleepy
Sleepy
0
Angry
Angry
0
Surprise
Surprise
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *