নারীশক্তির পূর্ণ প্রকাশ রাণী রাসমণি
(২৩১তম বর্ষে জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন)
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
যে যুগে পুরুষতান্ত্রিকতার নিস্পেষণে নারীদের ব্রাত্য করে রাখা হতো সর্বক্ষেত্রে, যে যুগে নারীর অধিকার সম্পর্কে ধারণা ছিল নেহাতই স্বপ্নের অতীত, যে যুগে স্বামীহারা নারীদের দুর্দশার অন্ত ছিল না, সে যুগে সমাজের চোখে চোখ রেখে, ৠজু মেরুদণ্ডের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বিভিন্ন জনহিতৈষী কাজের মাধ্যমে স্বকীয়তা বজায় রেখে নারীশক্তির পূর্ণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন রাণী রাসমণি। ২৩০ বছর আগে ২৮শে সেপ্টেম্বর উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে জন্মানো নিতান্তই এক গ্রাম্য বালিকা কলকাতার জানবাজারের বিখ্যাত দাস পরিবারের বধূ হয়ে নিজ গুণে আখ্যা পেয়েছেন লোকমাতা। হয়েছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়া রাণী রাসমণি। সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়, পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের। ১৮৫৫ সালের ৩১শে মে পবিত্র স্নানযাত্রার দিনে যুগাবতার রামকৃষ্ণ পরমহংসের লীলা বিজড়িত ইতিহাসের মাইলফলক স্পর্শ করা দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবের লীলার পূর্ণ প্রকাশে রাণীমার অবদান কম নয়। এর পাশাপাশি তীর্থযাত্রীদের জন্য সুবর্ণরেখা নদী থেকে পুরীর জগন্নাথক্ষেত্র পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি কলকাতায় গঙ্গাস্নানের সুবিধার জন্য নির্মাণ করেন স্বামী বাবু রাজচন্দ্র দাসের নামাঙ্কিত বাবুঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, নিমতলা ঘাট। এছাড়াও শিয়ালদহ সংলগ্ন বেলেঘাটা, দক্ষিণে ভবানীপুরে স্থাপন করেন বাজার। ১ লক্ষ টাকা খরচ করে গড়েন স্টোনার খাল। হিন্দু কলেজ, জাতীয় গ্রন্থাগারের জন্যও দান করেন প্রভূত অর্থ। প্রকৃতপক্ষে ও বৃহত্তর অর্থে সর্বক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য অবদানে নক্ষত্রসম উজ্জ্বল মহীয়সী রাণী রাসমণি।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
