জলের রাণী সমুদ্রজিত আরতি
(জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি)
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
জলকে বড়ো ভালোবাসত চার বছরের মেয়েটি। জলেই তার আনন্দ। জল বড়ো আপন। মা হারা মেয়েকে উত্তর কলকাতার হাটখোলা সুইমিং ক্লাবে ভর্তি করে দিলেন কাকা। আর মাত্র ৫ বছর বয়সেই ১১০ গজ দূরত্বের ফ্রিস্টাইল সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনার মেডেল জিতে ফেলল ছোট্ট আরতি। বাকিটা ইতিহাস। একে একে ২২টি রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে ১৯৫২ হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পাশাপাশি ইংলিশ চ্যানেল জয়ী মিহির সেনের অনুপ্রেরণায় ১৯৫৯ সালে প্রথম এশীয় মহিলা সাঁতারু হিসাবে পার হয়ে গেলেন ইংলিশ চ্যানেল। তিনি আরতি সাহা।
ইউরোপের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, উত্তাল সমুদ্র, প্রতিকূল পরিবেশ কিছুই দমাতে পারেনি আরতিকে। বরং দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছেন তিনি। একাধিক চেষ্টার পর ১৬ ঘন্টা ২০ মিনিট সময় নিয়ে ফ্রান্সের কেপ গ্রীস নে থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের স্যান্ডগেটে পৌঁছে তেরঙা পতাকা উত্তোলন করেন আরতি সাহা। জয় করেন ইংলিশ চ্যানেল। তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ভারতের প্রথম মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসাবে তাঁকে ১৯৬০ সালে পদ্মশ্রী দেয় ভারত সরকার। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর হাত থেকে সম্মান নেন তিনি। পরবর্তীতে স্বনামধন্য চিকিৎসক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন উত্তর কলকাতার শোভাবাজার নিবাসী কলকাতা মেডিকেল কলেজের কৃতি ছাত্র ডাঃ অরুণ কুমার গুপ্তের সঙ্গে।
২৪শে সেপ্টেম্বর তাঁর ৮৪তম জন্মদিন। ১৯৯৯ সালে তাঁর সম্মানে ডাকটিকিট প্রকাশ করে ভারত সরকারের ডাক বিভাগ।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
