দেবী দুর্গাই অন্নদায়িনী অন্নপূর্ণা
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
দেবী দুর্গারই আরেক রূপ দেবী অন্নপূর্ণা। অন্নপূর্ণা অন্নদায়িনী। তিনি সাক্ষাৎ পরমাপ্রকৃতি। স্বয়ং আদ্যাশক্তি মহামায়া। জীবের অন্ন কষ্ট দূর করেন তিনি। চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে তাঁর আবির্ভাব। প্রচলিত বিশ্বাস যে অন্নপূর্ণা পুজো করলে ঘরে অন্নাভাব থাকে না। জানা যায়, বাংলায় প্রথম অন্নপূর্ণা পুজো শুরু হয় নদীয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদারের হাত ধরে। পরবর্তীতে তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি অন্নদামঙ্গল কাব্যে দেবী অন্নপূর্ণার গুণকীর্তন করার পাশাপাশি বাংলার ঘরের মেয়ে লৌকিক দেবী হিসাবে অন্নপূর্ণাকে প্রতিভাত করেন কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

দেবী অন্নপূর্ণা যে স্বয়ং দেবী দুর্গা তা জানতে চোখ রাখতে হবে পৌরাণিক উপাখ্যানে। মার্কন্ডেয় পুরাণের কাশীখন্ডে বর্ণিত যে একবার দারিদ্র্যের কারণে কৈলাশে অবস্থান করা হর পার্বতীর মধ্যে চরম মনোমালিন্য হয়। শিব চিরকালই দরিদ্র। কিন্তু হিমালয় কন্যা পার্বতী দারিদ্র্যের কষ্ট মানতে নারাজ। এহেন অবস্থায় পার্বতীকে কুহক মায়া বলে তিরস্কার করেন ভগবান শঙ্কর। মনের দুঃখে কৈলাশ ত্যাগ করেন পার্বতী। তাঁর কৈলাশ ত্যাগের কারণে জগতে দেখা দেয় অন্নাভাব। অন্নের অভাবে প্রাণ যেতে বসে তাবৎ জীবকূলের। অন্নের অভাবে কষ্ট পেতে হয় স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবকেও। ভিক্ষা করেও মেলে না কনামাত্র অন্ন। তখন সমগ্র জীবকূলের প্রাণ রক্ষা করতে ভিক্ষা পাত্র হাতে উদভ্রান্তের মতো চারিদিকে ছুটে তাঁরই হাতে নির্মিত কাশীতে এলেন শিব। সেখানে রক্তবর্ণা, বিচিত্রবসনা, অন্নপাত্র ও দর্বী বা হাতা নিয়ে এক দেবীর কাছে ‘ভিক্ষাং দেহি’ বলে অন্ন ভিক্ষা করলেন শিব। শিবকে ফেরালেন না তিনি। স্মিতহাস্যে শিবের ভিক্ষাপাত্র অন্নে ভরে দিলেন সেই দেবী। তাঁকে চিনলেন শিব। এই দেবীই স্বয়ং শঙ্করের হৃদয়বল্লভা পার্বতী। আদতে যিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া দুর্গা। অন্নপাত্র হাতে সেই তিনিই আবার দেবী অন্নপূর্ণা। সেই থেকে মোক্ষভূমি কাশীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন অন্নপূর্ণা। যাঁর অপার কৃপায় কাশীতে কেউ অন্ন কষ্ট পায় না।
দেবী অন্নপূর্ণা দ্বিভুজা। এক হাতে অন্নপাত্র। অন্য হাতে দর্বী বা হাতা। অন্যদিকে দক্ষিণামূর্তি সংহিতা অনুযায়ী পদ্ম, অঙ্কুশ, অভয় ও বরদহস্তা দেবী অন্নপূর্ণা চতুর্ভুজা। উভয় রূপই পরম করুণাময়ী মাতৃরূপ। দেবী অন্নপূর্ণার অপর নাম অন্নদা। তিনি ত্রিনয়নী। মস্তকে নবচন্দ্রকলা ও দুই পাশে ভূমি এবং শ্রী সহ শিবকে দেখে আনন্দে পরিপূর্ণা। অন্নপূর্ণা অন্নপ্রদায়িনী, ভবদুঃখহন্ত্রী, পরম করুণাময়ী। তাঁর কাছে জ্ঞান, বৈরাগ্য স্বরূপ ভিক্ষা চেয়ে বঞ্চিত হয় না ভক্ত। তাই তো বলা হয় “অন্নপূর্ণে সদাপূর্ণে শঙ্কর প্রাণবল্লভে, জ্ঞানবৈরাগ্যসিদ্ধার্থং ভিক্ষাং দেহি নমহস্তুতে।”

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
