*২৬,০০০ চাকরি বাতিল! ১২% সুদ সহ ৯ বছরের বেতন ফেরাতে হবে; সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ*
নবনীতা পাল, Rong News
সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও জানিয়ে দিল, কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য এটা বাছাই করা সম্ভব নয়৷ তাই ২০১৬ সালের এসএসসি-র গোটা প্যানেলই বাতিল করার হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট৷ পাশাপাশি এসেছে একগুচ্ছ অন্য নির্দেশও৷ সুপ্রিম রায়ে জানানো হয়েছে, কাদের গত বছরের বেতন সুদসহ ফেরত দিতে হবে, কাদের নয়৷ জানানো হয়েছে, চাকরি বাতির হওয়া প্রায় ২৫, ৩০০ জন রাজ্য সরকারেরই অন্যান্য দফতরে আবেদন জানাতে পারবেন৷ সেক্ষেত্রে, তাঁদের বয়ঃসীমায় ছাড় দেওয়া হবে৷ যে সমস্ত চাকুরিজীবীরা নিজেদের পূর্বতন চাকরি ছেড়ে এই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তাঁরা তাঁদের পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁদের পূর্বতন কাজে ফেরত পাঠাতে হবে বলে রায় সুপ্রিম কোর্টের৷
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানায়, ২০১৬ সালের এসএসসি-তে চাকরি পাওয়া ১৮ জন দৃষ্টিহীনেরও চাকরি বাতিল হয়েছে। মূল মামলাকারীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ইনসার্ভিস শিক্ষকেরা স্বস্তি পেয়েছে। বেতন ফেরত দিতে হবে চিহ্নিত অযোগ্য চাকরি প্রাপকদের৷ তা-ও ১২% সুদসহ।’’ পাশাপাশি, যাঁরা এতদিন চাকরি করেছেন, বেতন পেয়েছেন, তাঁদের বেতন ফেরত দিতে হবে না।
প্রসঙ্গত, এসএসসির শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। গত বছর এপ্রিল মাসে কলকাতা হাই কোর্ট ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো প্যানেল বাতিল করে দেয়। এর ফলে ২৫,৭৫৩ জনের চাকরি যায়। চাকরিহারা হন একাদশ-দ্বাদশ, নবম-দশমের শিক্ষক এবং গ্রুপ ডি ও গ্রুপ-সির কর্মীরা। হাই কোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য-সহ একাধিক পক্ষ যায়৷ ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে মামা৷ সেই মামলারই রায়পর্ব ছিল আজ, বৃহস্পতিবার৷
কারা যোগ্য এবং কারা অযোগ্য শুনানিতে বার বার এই প্রশ্ন ওঠে। সঠিক ভাবে যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব কি না সেই প্রশ্নও তোলে আদালত। এই মামলার শেষ দিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘যোগ্য-অযোগ্যদের নির্ণয় করা খুবই কঠিন।’’
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
