জগন্নাথ ধাম”- নাম ঘিরে বিতর্কে বাঙলা বনাম ওড়িশা

Views: 64
0 0

*”জগন্নাথ ধাম”- নাম ঘিরে বিতর্কে বাঙলা বনাম ওড়িশা*

 

নবনীতা পাল: Rong News

 

দীঘায় নতুন জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পরেই শুরু হয়েছে নাম-যুদ্ধ। ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মহাবিতর্ক। বাংলার প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার দাবি একটাই জগন্নাথ ধাম-তা পুরীতেই। এর বাইরে কোনও জগন্নাথ ধাম হতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার দীঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসাবে উল্লেখ করার পরেই বাংলা বনাম ওড়িশার মহাসংগ্রাম শুরু হয়েছে।

 

ঐতিহাসিক এবং শাস্ত্রীয় ভাবে দ্বাদশ শতাব্দীর পুরীর মন্দিরের জন্য সংরক্ষিতই ‘জগন্নাথ ধাম’ নামটি। যা হিন্দু ধর্মের চার প্রধান তীর্থস্থানের মধ্যে একটি হিসেবেই বিবেচিত হয়। জগন্নাথ ধাম নামকরণের বিরুদ্ধে ওড়িশার ধর্মীয় পণ্ডিত, পুরোহিত এবং সেবকরা। তাঁরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তি দিয়েছেন যে, ‘ধাম’ উপাধির ব্যবহার এমন এক মর্যাদা এবং পবিত্রতাকে বোঝায়, যা শতাব্দীর ঐতিহ্যকে বিকৃত না করে পুনরায় তৈরি বা দাবি করা যায় না।

 

‘ধাম’ শব্দটি হিন্দু ধর্মতত্ত্বে কেবলই সম্মানসূচক নয়। ঐতিহ্যগতভাবে, এটি হিন্দু ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত পবিত্র স্থানগুলিকেও বোঝায়। অষ্টম শতকের দার্শনিক এবং ধর্মতত্ত্ববিদ আদি শঙ্করাচার্য পুরীকে, ভারতের চার ধামের একটি। বাকিগুলি-বদ্রীনাথ, দ্বারকা এবং রামেশ্বরম। এই ধাম তকমা বিনিময় করা যায় না।

 

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বালুশিল্পী এবং পদ্মশ্রী পুরষ্কারজয়ী সুদর্শন পট্টনায়েক দীঘার মন্দিরের নামকরণ নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, দীঘা মন্দিরকে জগন্নাথ ধাম বলা হলে তা ভক্তদের বিভ্রান্ত করবে এবং পুরীর মন্দিরের অনন্য পরিচয়ের প্রতি অসম্মানও।

 

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সুদর্শন লিখেছেন, ‘এই বিবৃতি বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ জগন্নাথ ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত করেছে। আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অনুসারে পুরীতে অবস্থিত একটিই মাত্র জগন্নাথ ধাম রয়েছে। অন্য কোনও মন্দিরকে এই নামের সঙ্গে যুক্ত করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী আধ্যাত্মিক ও হিন্দু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তা বিরোধিতার শামিল। শিল্পী ওড়িশা সরকারকে অনুরোধ করেছেন যে, এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার। চিঠির অনুলিপি ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দনের কাছেও তিনি পাঠিয়েছেন।

 

সিনিয়র সেবায়েত রামচন্দ্র দাসমহাপাত্র বলেছেন, ‘দীঘা কী করে ধাম হতে পারে? সব সমুদ্র মাহোদাধি নয়। সারা বিশ্ব জুড়ে থাকা জগন্নাথ মন্দিরও ধাম নয়। দয়া করে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

 

 

শ্রী জগন্নাথ সেনা কনভেনর প্রিয়দর্শন পট্টনায়েক বলেন, ‘মমতাদিদির বাঙালিদের বিভ্রান্ত করা উচিত নয়। বাংলার মানুষ জানে কোনটা কী, তাদের বিভ্রান্ত করা কঠিন।’

 

 

 

 

 

 

 

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী

ম্যানেজার – বুবুন মাইতি

এডিটর – দিব্যেন্দু দাস

এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা

Happy
Happy
0
Sad
Sad
0
Excited
Excited
0
Sleepy
Sleepy
0
Angry
Angry
0
Surprise
Surprise
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *