মানুষ গড়ে চলেছেন ‘সাইকেলওয়ালা গুরুজি’
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
সবেধন নীলমণি একটিমাত্র সাইকেলে চড়েই গোটা দেশ জুড়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে একহাতে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া, অন্য হাতে পড়াশোনার মাধ্যমে দারিদ্র্যের তীব্র কশাঘাত থেকে মুক্তির দিশা দেখানোর কাজ করে চলেছেন উত্তরপ্রদেশের আদিত্য কুমার। শিক্ষকরাই যে জাতির মেরুদণ্ড, মানুষ গড়ার কাজ যে আদতে শিক্ষকরাই করেন সেই মহৎ আদর্শকে সামনে রেখে সাইকেলে বোর্ড ঝুলিয়ে প্যাডেল ঘুরিয়ে গন্ড গ্রাম থেকে শহরের বস্তি বা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নিরক্ষর শিশুদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে চলেছেন আদিত্য কুমার। লক্ষ্য এক কোটি নিরক্ষর শিশুদের পড়াশোনা শেখানো।

উত্তরপ্রদেশের ফারুকাবাদের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া আদিত্য কুমার ১৯৯৫ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক হন। বাবা ছিলেন জনমজুর। বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে অন্ন সংস্থানের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া রীতিমতো কঠিন ছিল আদিত্য কুমারের কাছে। আর পাঁচজন বাবা মায়ের মতো তাঁর বাবা মা চাইতেন ছেলে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করেন। কিন্তু আদিত্যের মতো মানুষেরা যে অন্য ধাতুতে গড়া। ছাত্র জীবনে গৃহশিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতাকেই আদর্শ করে লখনউ স্টেশনের আশেপাশের বস্তি ও পথ শিশুদের পড়াতে শুরু করেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাঁদা তুলে দেওয়া হয় একটি সাইকেল। সেই সাইকেলেই শিশুদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আদিত্যের অবৈতনিক স্কুল। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি শিক্ষা দিয়ে চলেছেন আদিত্য কুমার। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, সংখ্যার হিসাবে এইভাবে এখন পর্যন্ত চার লক্ষ ক্লাস করা হয়ে গিয়েছে তাঁর। ২০১৮ সালে গুগুল তাঁকে দিয়েছে ভারতের ১ নম্বর শিক্ষকের পুরস্কার। লিমকা বুক অফ রেকর্ডসেও উঠেছে তাঁর নাম।
ভারতের মতো দেশে যেখানে আজও উপযুক্ত শিক্ষার পরিকাঠামোর অভাব, শিক্ষালাভ আজও যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিলাসিতা সেখানে সমাজের বুকে এক নীরব বিপ্লবের বীজ বপন করে চলে হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘সাইকেলওয়ালা গুরুজি’ নামে।

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
