মহিলাদের স্বনির্ভরতার দিশা দেখাচ্ছেন ‘মাশরুম লেডি’
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
সংসারের অভাব অনটন মেটাতে শুরু করেছিলেন মাশরুম চাষ। তাও আবার খাটের নিচে। মাথা গোঁজার মতো ঘর থাকলেও চাষবাসের জন্য ছিল না নিজস্ব এক চিলতে জমিও। আজ সেই খাটের নিচে উৎপাদন করা মাশরুম আত্মনির্ভরতার পাশাপাশি পাদপ্রদীপের আলোয় এনে দিয়েছে বিহারের মুঙ্গের জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম তিলকারির নিতান্তই আটপৌরে গৃহবধূ বীণা দেবীকে। নিজের আর্থিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বীণা দেবী স্বনির্ভর করে ফেলেছেন প্রায় সত্তর হাজার মহিলাকে।
তবে শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না। বীণা দেবীর স্বামী গ্রামীণ চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত। বলার মতো রোজগার আদৌ ছিল না। আক্ষরিক অর্থেই নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে অভাব অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। অভাব মেটানোর চেষ্টায় এক কিলো মাশরুমের বীজ এনে খাটের নিচে চাষ করা শুরু করেন। পরে ভাগলপুরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন বীণা দেবী। বাকিটা ইতিহাস। মাশরুম উৎপাদন দ্রুত বাড়তে থাকে। চাহিদা থাকায় বাড়তে থাকে বিক্রি। ধীরে ধীরে অর্থের মুখ দেখতে থাকেন বীণা দেবী। সংসারের হাল পাল্টাতে থাকে। তাঁর ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাঠরত। হাসি ফোটে সকলের মুখে। তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে মাশরুম চাষে এগিয়ে আসেন অন্যান্য মহিলারা। সংখ্যাটা বাড়তে থাকে। তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসাবে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের হাত থেকে পুরস্কার পান বীণা দেবী। এরপর কিষান অভিনব পুরস্কার, ‘উইমেন ফার্মার অ্যাওয়ার্ড’ ছাড়াও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকেও পুরস্কার গ্রহণ করেন বীণা দেবী। ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে তাঁর কথা আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সারা দেশে ‘মাশরুম লেডি’ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন বীণা দেবী। তাঁর কথায়, মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর্থিক স্বনির্ভরতা আনে আত্মবিশ্বাস। সংসারে শান্তি, সচ্ছলতার পাশাপাশি বাড়বে আত্মমর্যাদা। তিনি মাশরুম লেডি বীণা দেবী।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
