মহাতীর্থ মহাকালেশ্বর
✍🏾সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , রঙ নিউজ
ভারত বিশ্রুত মহাসাধক জগৎগুরু শঙ্করাচার্য চিহ্নিত দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম মহাকালেশ্বর শিব। মধ্যপ্রদেশে শিপ্রা নদীর তীরে উজ্জয়িনীর দক্ষিণমুখী পিঙ্গল বর্ণের শিব মহাকালেশ্বরের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অসীম। শিব পুরাণের কথায়, মহাকালেশ্বর দর্শনে ভক্তের সকল দুঃখ ঘুচে যায়। যে যা কামনা করে তাঁর সেবা পুজো করে, বাবা মহাকাল তাকে সেইরূপ ফল প্রদান করেন। তাই তো যুগে যুগে সংসার তাপে দগ্ধ মানুষ ছুটে এসেছে মহাকালের কাছে। দুঃখনাশকারী শিবের চরণতলে লুটিয়ে পড়েছে সংসার মায়ায় আবদ্ধ অসংখ্য মানুষ। মহাকালেশ্বরের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এতটাই যে মহাভারতের বন পর্বে মহামতি ভীষ্মকে এই তীর্থ দর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন সপ্ত ৠষির অন্যতম পুলস্ত্য।মহাকালেশ্বরকে অনন্ত কল্পেশ্বর নামেও অভিহিত করেছেন ৠষিরা।
দেবভূমি ভারতের নাভিস্থল অতি প্রাচীন উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর আক্ষরিক অর্থেই এক মহাতীর্থ। এই উজ্জয়িনীই হলো প্রাচীন অবন্তিকা নগরী যা কিনা সাতটি মোক্ষভূমির অন্যতম। বৃহদ্ধর্ম পুরাণের ভাষ্য অনুযায়ী-
“অযোধ্যা মথুরা কাশী কাঞ্চী অবন্তিকা, পুরী দ্বারাবতী চৈব সপ্তৈতা মোক্ষদায়িকা!” ভারতের নাভিস্থল বলে অবন্তিকা উজ্জয়িনীর বাহারি নামের ছড়াছড়ি। তাঁর লেখা মেঘদূতে অবন্তিকাকে বিশালা বলে উল্লেখ করেছেন মহাকবি কালিদাস। কথা সরিৎ সাগরে হিরণ্যবতী, পদ্মাবতী, ভোগবতী। বিভিন্ন পুরাণে অবন্তিকাকে কুমুদমতী, অমরাবতী, কণকশৃঙ্গ, কুশস্থলী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবের দেওয়া নাম উজ্জয়িনী ছিল রাজর্ষি মহারাজ বিক্রমাদিত্যের রাজধানী।
ফিরে আসা যাক শিব পুরাণের কথায়। প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে প্রাচীন অবন্তিকায় বাস করতেন এক সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ সুব্রত মুণি। দূষণ নামে দুরাচারী অসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরবাসীদের বাঁচাতে মহাকাল শিবের সামনে কঠোর তপস্যায় বসেন তিনি। ভক্ত সাধকের আকুল আহ্বানে সাড়া দেন মহাদেব। শরণাগতকে রক্ষা করতে শিবলিঙ্গ ফাটিয়ে প্রকট হন ভক্তের ভগবান দেবাদিদেব মহাদেব। অসুরকে বধ করে ভক্তদের রক্ষা করেন তিনি। রয়ে যায় চিন্হ। ভালো করে দেখলে দেখা যাবে যে মহাকাল শিবলিঙ্গ ঈষৎ ফাটা ফাটা। মাটি থেকে প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতায় রূপোর গৌরীপট্ট বেষ্টিত হয়ে অবস্থান করছেন বাবা মহাকাল। ভক্তদের স্পর্শে, আলিঙ্গনে, মনোমো শৃঙ্গারে কোনোও আপত্তি নেই বাবার। তিনি যে পরম আনন্দময় সচ্চিদানন্দ!
যুগে যুগে তপোভূমি ভারতবর্ষের বুকে জন্ম নেওয়া সাধক মহাত্মাদের পদধূলিধন্য উজ্জয়িনী। এখানেই জন্ম গ্রহণ করেন ভারত বরেণ্য মহাসাধক শ্রী শ্রী বালানন্দ ব্রহ্মচারী। উজ্জয়িনীতে তাঁর সাধন আসন পাতেন বৈষ্ণব সাধক বল্লভাচার্য। এখানেই দীর্ঘ সময় তপস্যা করেন স্বয়ং মহারাজ বিক্রমাদিত্য। কঠোর সাধনায় মগ্ন ছিলেন বিক্রমাদিত্যের ভাই ভর্তৃহরি। মহাকালেশ্বরের আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে পরম ভক্তিতে তাঁর শিবাষ্টক স্তোত্রমে আচার্য শঙ্কর লেখেন-
“নয়নত্রয় ভূষিত চারু মুখং, পদ্মমুখ পরাজিত কোটি বিধুম!” মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের পরম সত্তা অনুভব করে ভক্তদের কন্ঠে শুধু তাঁরই জয়ধ্বনি-“জয় মহাকাল দেব কি জয়!”

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, রামানন্দ দাস, প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
