অম্বুবাচিতে রজঃস্বলা হন দেবী কামাখ্যা
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
আষাঢ় মাসে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ঠিক আগে পড়ে অম্বুবাচি যোগ। আর এই অম্বুবাচিতেই রজঃস্বলা হন ৫১ সতীপীঠের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও অতি জাগ্রত পীঠের অধিশ্বরী দেবী কামাখ্যা। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে কামরূপ বা আসামের নীলপর্বতে পতিত হওয়া সতীর মাতৃঅঙ্গ থেকে প্রবাহিত হয় রক্তধারা। এই সময় দেবীর দশভুজা প্রতিনিধি মূর্তি বা ভোগমূর্তিতে নিত্য পুজো হলেও তিনদিন বন্ধ থাকে মন্দিরের গর্ভগৃহ। চতুর্থ দিন থেকে যথারীতি শুরু হয় গর্ভগৃহে দেবী কামাখ্যার নিত্য পুজো। সুপ্রাচীন দেবী তীর্থ কামাখ্যা শক্তিপীঠ। সিদ্ধপীঠও বটে। তন্ত্র সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থান কামাখ্যা। যুগে যুগে বহু শক্তিশালী তন্ত্রসাধক সিদ্ধিলাভ করেন এখানে। পতিত হওয়া সতীখন্ডের বিষয়ে আলোকপাত করতে গেলে চোখ রাখতে হবে পৌরাণিক উপাখ্যানে।

পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, পিতা দক্ষরাজের মুখে পতি নিন্দা সহ্য করতে না পেরে অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে দেহত্যাগ করেন সতী। সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তান্ডব নৃত্যে পৃথিবী কাঁপিয়ে দিয়েছেন পত্নীশোকে বিহ্বল শিব। ধরিত্রীকে বাঁচাতে এক এক করে মোট ৫১টি খন্ডে সতীর দেহ ছড়িয়ে দেয় জগৎপালক নারায়ণের সুদর্শন চক্র। সেই সময় সতীর মাতৃঅঙ্গ পতিত হয় নীলপর্বতে। অঙ্গের ভারে গোটা পর্বতটি নীল রং ধারণ করে। নাম হয় নীলপর্বত এবং সেখানেই সৃষ্টি হয় শিলায়িত মহামুদ্রা যোনিপীঠ। দেবী এখানে স্বয়ং আদ্যাশক্তি মহামায়া কামেশ্বরী কামাখ্যা হিসাবে অধিষ্ঠাত্রী। এবার চোখ রাখা যাক দেবীর গর্ভগৃহে যেখানে শিলায়িত অবস্থায় রয়েছে মহামায়ার মহামুদ্রা যোনিপীঠ। পাঁচ থেকে ছ ফুট বিস্তৃত শিলায়িত পীঠস্থানটি চৌবাচ্চার মতো বাঁধানো। একপাশ রূপো দিয়ে মোড়া। মধ্যে অবিকল নারীর যোনিদেশের মতোই সামান্য উঁচু প্রস্তরীভূত মাতৃঅঙ্গ মহামুদ্রা যোনিপীঠ যেখান থেকে শত শত বছর ধরে অবিরত জল উঠছে চুঁইয়ে চুঁইয়ে। এই জল চরণামৃত হিসাবে গ্রহণ করেন দর্শনার্থীরা। অতি জাগ্রত পীঠস্থান রক্ত জবার মালা, সোনার মুকুট ও লাল কাপড়ে আচ্ছাদিত যা স্পর্শ করে প্রণাম জানিয়ে পরম করুণাময়ী মায়ের কাছে মনের প্রার্থনা জানান অসংখ্য মানুষ। অম্বুবাচিতে চুঁইয়ে ওঠা পীঠস্থানের জলের রং থাকে লাল। এই সময় শিলায়িত পীঠস্থানে ঢাকা দেওয়া বস্ত্র লাল হয়ে যায়। বিশ্বাস যে আপদে বিপদে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি সমস্ত কাজে সিদ্ধিলাভের সহায়ক হয় যদি এই রক্তবস্ত্র সঙ্গে থাকে। কুব্জিকা তন্ত্রের কথায়, দেবী কামাখ্যার রক্তবস্ত্র শরীরে ধারণ করলে অভীষ্ট ফল লাভ হয়। পুজোপাঠ, জপতপে পূর্ণকাম হয় মানুষ। যোগিনী তন্ত্রের কথায়, এই মহাপীঠে পুজো, জপ যাই করা হোক না কেন তার ফল হয় অনন্ত। অর্থ, বাসস্থান, বিদ্যা, সন্তান তথা জাগতিক সমস্ত কিছু লাভ করা যায় পরম করুণাময়ী দেবী কামাখ্যার আশীর্বাদে।

সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায়,প্রতীক চ্যাটার্জী
ম্যানেজার – বুবুন মাইতি
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – রাকেশ শর্মা
