” অং বং চং ”
সোমনাথ মুখোপাধ্যায়:Rong News
পুরোহিত বেটা খুব কামাচ্ছে। ওই খানিকটা অং বং চং বলে হেব্বি মাল কামাচ্ছে। মানে তাই তো বলা হয়ে থাকে। এটাই রেওয়াজ। পুজো করাব পুরোহিত ডেকে কিন্তু বেশ কষে তাঁর সমালোচনা করতে পিছপা হব না। আর হবে নাই বা কেন! গলায় একটা পৈতে ঝুলিয়ে আর পরনে একটা ধুতি সহ এরা এক একটা মাতব্বর। ওই মাতব্বরি করেই ঘাড় মুড়িয়ে টাকা আদায় করে চলেছে। ঠিকই বলেছেন। আপনারা দুর্গাপুজোর মতো মহা রাজসিক পুজোর আয়োজন করবেন। নিজেরা হামবড়া ভাব বজায় রাখবেন কিন্তু পুজোর কিছু করবেন না! দুর্গাপুজো আপনাদের কাছে দেখনদারি মাত্র যেখানে ফুর্তিটা মুখ্য। পুজোটা গৌন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে চর্ব চোষ্য লেহ্য পেয় গান্ডেপিন্ডে গিলতে থাকা আপনি সমালোচনা করার আগে কখনো ভেবে দেখেছেন আপনাদের মঙ্গল কামনায় যে মানুষটি সাতসকালে পেটে কিল মেরে একটানা মন্ত্র পাঠ করে চলেছেন তার পেটে কতটা খিদে থাবা মারছে? আপনাদের চটপট পুজোটা ‘সালটে’ দেওয়ার হুকুমে সময়মতো পুজো শেষ করার তাগিদে কতটা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন পুরোহিতের! ও হো আপনারা তো আবার দস্তুরমতো দরদাম করে দক্ষিণা বাবদ টাকা দিচ্ছেন পুরোহিতকে। ফলে তিনি আপনার আজ্ঞাবহ দাস! তারপর প্রণামীর দশ, বিশ, পঞ্চাশের নোট, কয়েনে প্রচুর কামিয়ে নিল পুরুতঠাকুর কী বলেন! বদলে নিয়মরক্ষার জ্যালজেলে রুমালের সাইজের গামছা, ন্যাকড়ার মতো ধুতি আর ‘সি থ্রু’ শাড়ি সেই পুরোহিত ও তাঁর পরিবারের আদৌ কাজে লাগবে কিনা ভেবে দেখেছেন কখনো? আপনি চাকরি করে বেতন নিতে অস্বীকার করেন? ব্যবসা করে লাভের কড়ি ঘরে তুলতে অস্বীকার করেন? ও হো বেসরকারি চাকরিতে বেতন সবসময় বড্ড কম! সরকারি চাকরিতে তো সরকার হকের পাওনা ডিএ দিতেই চায় না! আর ব্যবসায় তো সারাটা বছরই লস্! আর সেখানে পেটের জ্বালায় পৌরহিত্য কর্মে এসে পড়ে সত্যি তো পুরোহিত বড্ড কামাচ্ছে! আলোর রোশনাই গায়ে মেখে আনন্দে মাতোয়ারা আপনি ভেবে দেখেছেন সেই মহিলার কথা যাঁর স্বামীর ঘরে ফেরার আশায় দিন গুনছেন? দুর্গাপুজোর মতো মহা পুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করে স্বামী কিছু রোজগার করে ঘরে ফিরবেন। দুর্গাপুজোর পরে হবে তাঁদের ‘দুর্গাপুজো’!
আচ্ছা আপনি কখনো ঝাড়া অন্ততঃ একটি ঘন্টা মন্ত্রোচ্চারণ করতে পারবেন? একটি ঘন্টা চন্ডীপাঠ করতে? নয় থেকে দশ রকম সামগ্রী সহ আরতি করতে? ধৈর্য্য ধরে প্রত্যেকের নাম, গোত্র সহ সংকল্প করে পুজো নিবেদন করতে? ভাবুন ভাবা প্র্যাকটিস করুন। তারপর না হয় পুরোহিতের কাছা ধরে টানবেন! পুরজনের হিত সাধন করতে এসেছেন যে মানুষটি তাকে নিয়ে ভাবুন। তারপর সমালোচনা করুন।
সাব এডিটর – অনুরাধা ভট্টাচার্য্য শর্মা, সোমনাথ মুখোপাধ্যায় , প্রতীক চ্যাটার্জী
এডিটর – দিব্যেন্দু দাস
এডিটর ইন চিফ – ড: রাকেশ শর্মা
